মধ্যপ্রাচ্যে ইরান যুদ্ধের জেরে ক্রমাগত জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে যুক্তরাষ্ট্রেও। ২০২২ সালের পর প্রথমবারের মতো দেশটিতে প্রতি গ্যালন জ্বালানি তেলের দাম ছাড়িয়েছে চার ডলার।
বার্তা সংস্থার এপির খবরে বলা হয়, মার্কিন মোটর সংস্থা এএএ জানিয়েছে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন সাধারণ গ্যাসোলিনের গড় দাম ৪ দশমিক ০২ ডলার। ইরান যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি গ্যালন তরল জ্বালানির দাম এক ডলারেরও কম ছিল।
অবশ্য এএএ বলছে, চার ডলারও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গড় মূল্য। বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে এর চেয়েও বেশি দামে জ্বালানি বিক্রি হচ্ছে। সরবরাহ, কর কাঠামোসহ বিভিন্ন কারণে অঞ্চলভেদে দামের তারতম্য দেখা যাচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বাড়তে থাকে। মধ্যপ্রাচ্যে সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত হওয়া এবং উৎপাদন কমে যাওয়ায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
জ্বালানির দাম বাড়ায় সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার খরচ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। অনেক পরিবারকে এখন প্রয়োজনীয় খরচ মেটাতে অন্য খাতে ব্যয় কমাতে হচ্ছে। একই সঙ্গে পরিবহন খরচ বাড়ায় পণ্য ও সেবার দামও বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব সরাসরি খাদ্যপণ্যের ওপর পড়বে। কারণ এগুলো প্রতিনিয়ত পরিবহন করা হয়। এরইমধ্যে ডাক ও পণ্য পরিবহন খাতেও জ্বালানির দামবৃদ্ধির স্পষ্ট প্রভাব পড়েছে।
ইউনাইটেড স্টেটস পোর্টাল সার্ভিস কিছু সেবায় সাময়িক সময়ের জন্য আট শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে।

তলরীকৃত গ্যাসের পাশাপাশি ডিজেলের দামও বেড়ে প্রতি গ্যালন ৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা যুদ্ধের আগে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৭৬ ডলার।
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে এই দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সেইসঙ্গে পারস্য উপসগারের গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিতে তেলবাহী জাহাজ চলাচল কার্যত প্রায় বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে তেলের যোগানও আশঙ্কাজনক হারে কমে গেছে।
সংকট মোকাবিলায় ইন্টারন্যাশনাল এনার্জি এজেন্সি জরুরি মজুত থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র সরকার ভেনেজুয়েলা ও রাশিয়া থেকে কিছু তেল সরবরাহ সহজ করার উদ্যোগ নিয়েছে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এসব পদক্ষেপের প্রভাব বাজারে পৌঁছাতে সময় লাগবে। কারণ পরিশোধনাগারগুলো আগেই কেনা দামী তেল ব্যবহার করছে, ফলে তাৎক্ষণিকভাবে দাম কমার সম্ভাবনা কম।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম প্রতি গ্যালনে ৫ ডলারের বেশি হয়েছিল। এরপর কিছুটা কমলেও এবার আবারও দাম বাড়তে শুরু করেছে, যা নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।


