সম্পূর্ণ নিরাপদ, আইনি ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ইউরোপের দেশ মলদোভায় দক্ষ কর্মী পাঠানোর উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী। বাহিনীর ওয়েলফেয়ার ট্রাস্টের মাধ্যমে ঢাকা মহানগর আনসারের (ডিএমএ) ৩০০ জন শহর প্রতিরক্ষা দলের (টিডিপি) নারী সদস্যরা পাবেন এই সুযোগ। ডিজিটাল পদ্ধতিতে তাদের বাছাই কার্যক্রম শুরু হয়েছে।
বুধবার বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তরে কঠোর নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে বাছাই প্রক্রিয়া শুরু হয়।
বাহিনীর মহাপরিচালক মেজর জেনারেল আবদুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদের নেতৃত্বে ও পরিকল্পনায় দালালের দৌরাত্ম্য রুখতে এবং শতভাগ মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন নিশ্চিত করতে পাঁচটি শক্তিশালী বাছাই কমিটি গঠন করা হয়েছে। ন্যূনতম অনিয়মের সুযোগ বন্ধ করতে এই কমিটিগুলো সর্বোচ্চ স্বচ্ছতার সঙ্গে প্রতিটি ধাপ তদারকি করছে।
বাছাই কার্যক্রমের প্রথম ধাপে ঢাকা মহানগর আনসার উত্তর ও পূর্ব জোনের প্রাথমিক বাছাইয়ে যোগ্য ১৩৯ জন টিডিপি নারী সদস্য অংশ নেন। বিদেশ গমনেচ্ছুক প্রার্থীরা শুরুতেই বাহিনীর সদর দপ্তর কর্তৃক নির্ধারিত ফর্মে স্বাক্ষর করেন। এরপর শুরু হয় মূল পরীক্ষা।
এই আধুনিক বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রথাগত কাগজ-কলমের পরীক্ষার বদলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষা কক্ষে দায়িত্বরত পরীক্ষা নিয়ন্ত্রকদের কড়া নজরদারিতে প্রার্থীরা নিজ নিজ স্মার্টফোনের জিমেইল অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে সরাসরি ‘গুগল ফর্ম’-এর মাধ্যমে লাইভ লিখিত পরীক্ষায় অংশ নেন। এ ছাড়া প্রার্থীদের নিখুঁতভাবে ওজন ও উচ্চতা পরিমাপসহ যাবতীয় শারীরিক যোগ্যতা যাচাই করা হয়। এরপর প্রার্থীরা সম্মিলিত পাঁচটি কমিটির জুরি বোর্ডের সামনে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নেন।
এই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো, প্রার্থীদের প্রতিটি ধাপের পরীক্ষার মূল্যায়নের তথ্য একটি বিশেষায়িত সফটওয়্যারে ইনপুট করা হয়, যা মানুষের হস্তক্ষেপ বা কারচুপি ছাড়াই স্বয়ংক্রিয়ভাবে মেধা তালিকা ও মূল্যায়ন মান প্রস্তুত করে।
ঢাকা মহানগর আনসার উত্তর ও পূর্ব জোনের বাছাই পর্ব শেষ হয়েছে। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় ধাপে অংশ নেবেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও পশ্চিম জোনের আরও ১৬১ জন টিডিপি নারী সদস্য। কোনো রকম তদবির, আর্থিক লেনদেন কিংবা স্বজনপ্রীতির সুযোগ না রেখে সম্পূর্ণ ডিজিটালাইজড ও স্বয়ংক্রিয় এই মূল্যায়ন পদ্ধতি দেখে অংশ নেওয়া তরুণীদের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস ও আত্মবিশ্বাস লক্ষ্য করা গেছে।
কেবল যোগ্য কর্মী বাছাই করাই এই উদ্যোগের শেষ কথা নয়, নির্বাচিত প্রার্থীদের আন্তর্জাতিক মানের দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে তৈরি করতে আপসহীন অবস্থান নিয়েছে বাহিনী। ইউরোপের সমাজ, সংস্কৃতি ও কাজের পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বিশেষ মডিউল তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের কঠিন চ্যালেঞ্জ জয়ে প্রার্থীদের পেশাদার দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি তাদের উন্নত প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে, যা তাদের বিদেশে যেকোনো প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সফল হতে সাহায্য করবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, দালালমুক্ত এবং সম্পূর্ণ মেধার ভিত্তিতে ইউরোপ যাওয়ার এই যুগান্তকারী মডেলটি সফল হলে তা দেশের সামগ্রিক জনশক্তি রপ্তানি খাতের জন্য একটি বৈপ্লবিক মাইলফলক হবে। এই প্রকল্পের চূড়ান্ত বাস্তবায়ন শুধু সাধারণ নারীদের পারিবারিক সচ্ছলতাই আনবে না, বরং তাদের প্রেরিত রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে যোগ করবে নতুন গতি এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করবে। একই সঙ্গে এটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এবং বাংলাদেশের নারী জাগরণ ও ক্ষমতায়নের এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।


