‘আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন’

‘আবেদনের পরও প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান নাগরিক অধিকার লঙ্ঘন’
আইন ও সালিশ কেন্দ্র
Advertisement
Advertisement

আবেদন সত্ত্বেও স্ত্রী-সন্তানের মৃত্যুর পর কারাবন্দি ছাত্রলীগ নেতার প্যারোলে মুক্তি প্রত্যাখ্যান করাকে নাগরিক অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংস্থাটির মতে, স্বজনের জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ না দেওয়া কার্যত তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করেছে।

যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দি বাগেরহাট সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি জুয়েল হাসান সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের (৯ মাস) জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানানো হয়। তবে পরিবারের দাবি, তাকে প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে যশোর কেন্দ্রীয় কারাগারের ফটকে শেষবারের মতো স্ত্রী-সন্তানের মুখ দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়।

আবেদন সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি না দিয়ে কারাফটকে মরদেহ দেখানোর ঘটনাকে সংবিধান এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে মনে করছে আসক।

এক বিবৃতিতে তারা বলেছে, বাংলাদেশ সংবিধানের অনুচ্ছেদ ২৭ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং সমান আইনি সুরক্ষার অধিকারী। অনুচ্ছেদ ৩১ নাগরিককে আইনের আশ্রয় পাওয়ার অধিকার দেয়, ৩৫(৫) অনুযায়ী কোনো ব্যক্তিকে নিষ্ঠুর, অমানবিক বা অবমাননাকর দণ্ড বা আচরণের শিকার করা যাবে না।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র বলছে, একজন বিচারাধীন বন্দি হিসেবে জুয়েল হাসান সাদ্দাম এসব সাংবিধানিক সুরক্ষা থেকে বঞ্চিত নন। অথচ তার স্ত্রী ও শিশুসন্তানের মৃত্যুজনিত চরম মানবিক পরিস্থিতিতে পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি না দেওয়া এবং জানাজা ও দাফনে অংশগ্রহণের সুযোগ অস্বীকার করা কার্যত তাকে অমানবিক ও অবমাননাকর আচরণের শিকার করেছে, যা সংবিধানের ৩৫(৫) অনুচ্ছেদের সরাসরি ব্যত্যয়।

আরও পড়ুন

আইন ও সালিশ কেন্দ্র মনে করে, কোন আইন, বিধি বা নির্বাহী আদেশের ভিত্তিতে পরিবারের আবেদন থাকা সত্ত্বেও প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়নি, তা জানার অধিকার দেশের নাগরিকদের রয়েছে।

আইনের শাসন কেবল সিদ্ধান্ত গ্রহণেই সীমাবদ্ধ নয়; সিদ্ধান্তের কারণ প্রকাশ এবং সেই সিদ্ধান্তের জবাবদিহি নিশ্চিত করাও এর অবিচ্ছেদ্য অংশ, বলে উল্লেখ করেছে সংস্থাটি।

গত ৫ আগস্ট আওয়ামী সরকারের পতনের পর গোপালগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন সাদ্দাম। বর্তমানে তিনি যশোর কারাগারে বন্দি রয়েছেন। গত শুক্রবার দুপুরে বাগেরহাট সদর উপজেলার কাড়াপাড়া ইউনিয়নের সাবেকডাঙ্গা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে সাদ্দামের স্ত্রী কানিজ সুবর্ণা স্বর্ণালীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তার পাশেই নিথর পড়েছিল ৯ মাসের শিশু নাজিম।

পুলিশ ও সাদ্দামের পরিবারের দাবি, হতাশাগ্রস্ত হয়ে শিশু সন্তানকে হত্যার পর আত্মহত্যা করেন স্বর্ণালী।

পরে শনিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে সাদ্দামের স্বজনরা কারাফটকে আসেন। সব কার্যক্রম শেষে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পরিবারের ছয় সদস্যসহ লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি কারাগারে প্রবেশের অনুমতি দেয় কারা কর্তৃপক্ষ।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad