তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন জানিয়েছেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি পূরণে আসন্ন সংসদ অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশ আইন হিসেবে পাশ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় এই আইনটির কার্যকর বাস্তবায়নে তথ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া হবে।
সোমবার শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা সেমিনার রুমে প্রগতির জন্য জ্ঞান-প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্স-আত্মা আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এসব কথা বলেন।
‘জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ: সরকারের সাফল্য, প্রতিশ্রুতি ও জনপ্রত্যাশা’ শীর্ষক এই বৈঠকে জানানো হয়, বাংলাদেশে তামাকের ব্যবহার বর্তমানে অত্যন্ত উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। দেশের প্রায় ৩ কোটি ৭৮ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক ব্যবহার করেন, যা মোট জনসংখ্যার প্রায় ৩৫ শতাংশ। তামাকের কারণে প্রতিদিন গড়ে ৫৪৮ জন মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন এবং অসংখ্য মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করছেন।
এছাড়া তামাকজনিত কারণে বছরে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। বিশেষজ্ঞগণ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ যদি জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই আইন হিসেবে পাশ না হয়, তবে তামাকের কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি ক্রমশ বাড়তেই থাকবে।
বৈঠকে বক্তারা বলেন, বর্তমান সরকারি দল বিএনপি তাদের নির্বাচনী ইশতেহারে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় আইনি উদ্যোগ গ্রহণের সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি প্রদান করেছে। জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনেই তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি আইন হিসেবে পাশ করা হলে তামাক ব্যবহারজনিত অসংক্রামক রোগের প্রকোপ এবং সরকারের স্বাস্থ্য ব্যয় অনেকাংশে কমে আসবে।
অনলাইন সংবাদমাধ্যম ‘চরচা’-এর সম্পাদক সোহরাব হাসান মনে করেন, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক নিয়ন্ত্রণ অধ্যাদেশটি হুবহু আইন হিসেবে পাশ করা উচিত।
যুগান্তরের সম্পাদক আবদুল হাই শিকদার বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণে শক্তিশালী আইনের কোনো বিকল্প নেই। তিনি জনপ্রত্যাশা পূরণে অধ্যাদেশটি যথাসময়ে আইন হিসেবে পাশের জোর দাবি জানান। চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম বলেন, তামাক নিয়ন্ত্রণ আইন শক্তিশালীকরণে গণমাধ্যম যে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করছে, তা চলমান রাখতে হবে।
অনুষ্ঠানে তামাক ব্যবহারের ফলে ক্যানসারে আক্রান্ত ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতা বিনিময় পর্বটি পরিচালনা করেন বাংলাদেশ ক্যানসার সোসাইটির সভাপতি অধ্যাপক ডা. গোলাম মহিউদ্দিন ফারুক। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন আত্মা’র কনভেনর মর্তুজা হায়দার লিটন ও প্রজ্ঞা’র নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়েরসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। আত্মা’র কো-কনভেনর নাদিরা কিরণের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মূল উপস্থাপনা তুলে ধরেন প্রজ্ঞা’র তামাক নিয়ন্ত্রণ বিষয়ক প্রকল্প প্রধান হাসান শাহরিয়ার।
উল্লেখ্য, প্রস্তাবিত এই অধ্যাদেশে তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন আসক্তি থেকে রক্ষায় ই-সিগারেট, ভ্যাপ ও হিটেড টোব্যাকো প্রোডাক্ট প্রভৃতির উৎপাদন, আমদানি, বিপণন ও ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নারী ও শিশুসহ অধূমপায়ীদের পরোক্ষ ধূমপানের মারাত্মক ক্ষতি থেকে বাঁচাতে সকল পাবলিক প্লেস ও পাবলিক পরিবহনে ‘ধূমপানের জন্য নির্ধারিত স্থান’ রাখার বিধান বাতিলের মাধ্যমে শতভাগ ধূমপানমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা হয়েছে।
এছাড়াও অধ্যাদেশে ধূমপান নিরুৎসাহিত করতে বিক্রয়স্থলে তামাকপণ্য প্রদর্শন নিষিদ্ধসহ তামাকজাত দ্রব্যের বিজ্ঞাপন, প্রচার ও পৃষ্ঠপোষকতার ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।


