সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে দর্শকদের সবচেয়ে বড় উল্লাসটা শোনা গেল লিটন দাসের ফিফটির পর। শুরু হলো ‘লিটন! লিটন!’ স্লোগান। এই আওয়াজ আন্দোলিত না হওয়ারও খুব যৌক্তিক একটা কারণও নেই। বাংলাদেশ-নেদারল্যান্ডসের তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম টি-টোয়েন্টিতে লিটনের ৫৪* ইনিংসটা এক পাশে সরিয়ে রাখলে ম্যাচটাকে ‘নিরুত্তাপ’ ট্যাগ যে কেউ দিতেই পারেন।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ধুঁকেছে ডাচ দল। ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে তুলেছে মাত্র ১৩৭। লিটনের ৬৭* রানের ইনিংসের সাথে প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাইফ হাসানের৩ ছক্কা ও এক চারে ১৯ বলে ৩৬* রানের ক্যামিওতে ৩৯ বল হাতে রেখে জিতল বাংলাদেশ। ৮ উইকেটের এই জয়ে সিরিজের ১-০ তে এগিয়ে গেলেন লিটনরা।
সিলেটের মাঠের সুনাম আছে টি-টোয়েন্টি সূলভ উইকেটের জন্য। অবশ্য এই ম্যাচের উইকেট ছিল একটু ভিন্ন। ভিন্নতার ছোঁয়া যোগ করেছে সবুজ ঘাস। টসের সময় লিটনও বলছিলেন, বাংলাদেশের মাঠে এমন ঘাসের উইকেটে আগে খেলেননি। উইকেটের আচার আচরণ বুঝতে তাই নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টিতে টসে জিতে আগে বোলিংয়ে গেলেন দল নিয়ে। উইকেটটা ঠিকঠাক লিটন পড়তে পেরেছেন, ম্যাচ শেষে এই কথা বলাই যায়।
তাসকিন আহমেদের দুই স্পেলে চার উইকেট, প্রায় দুই বছর পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফেরা সাইফ হাসানের পার্ট টাইম স্পিনে ২০ ওভারে খেললেও লড়াই করার মতো স্কোর ডাচরা করতে পারেনি। তবে বাংলাদেশের ব্যাটাররা অতক্ষণ অপেক্ষা করতে চাইলেন না, দর্শকদেরও অপেক্ষায় রাখলেন না। ২৬ রানের ওপেনিং জুটিতে পারভেজ ইমন-তানজিদ তামিম শুরু করলেও খুব বেশি দূর টানতে পারেননি। তবে তিনে নেমে লিটন শুরু করলেন কাউন্টার অ্যাটাক। স্কয়ার কাটে চার, দৃষ্টিনন্দন কভার ড্রাইভ, আলতো হাতের ফ্লিক, স্লগ সুইপ কিংবা দারুণ এক রিভার্স সুইপ। আজ তার শট সিলেকশন ছিল দেখার মতো। ২৭ বলে ছুঁয়েছেন ১৩-তম টি-টোয়েন্টি ফিফটি। ইনিংস শেষে ছয়টা চার আর দুটা ছক্কা। সিলেটের দর্শকদের পয়সা উসুল করা এক ইনিংস। আর গেট ভেঙে গ্রিন গ্যালারিতে প্রবেশ করা হাজারখানেক দর্শকদের তো তার চেয়ে বেশি কিছু।
দ্বিতীয় উইকেটে জুটিতে লিটনের সাথে ৬৬ রানের একটা জুটি হয়েছে তানজিদের। তবে ৩৯ বল মেয়াদী সেই জুটিতে অবদান সবচেয়ে বেশই লিটনেরই; ২২ বলে ৪৪। তানজিদ আউট হয়েছেন প্রিঙ্গলের একটা ফুলটসে। এরপর সাইফ এসে শুরু করেছেন ঝোড়ো ব্যাটিং। যদিও প্রথম রানের দেখা পেতে অপেক্ষা করতে হয়েছে তিন বল। তবে প্রথম রানের দেখা পাওয়ার পরই খেলেছেন হাত খুলে, ছক্কা মেরেছেন তিনটা। প্রথমটা জুটেছে প্রিংগলের ভাগ্যে, এগিয়ে এসে লং অনে। পরের দুটো মেরেছেন টানা ভিক্রমজিতকে, যার দ্বিতীয়টায় ম্যাচ জিতেছে বাংলাদেশ।