নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যার পর কাদামাটির নিচে জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের টানেলে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে তৎপরতা জোরদার করেছে উদ্ধারকারী দলগুলো।
সোমবারও তাদের কাছে পৌঁছাতে তীব্র চেষ্টা চালায় উদ্ধারকারীরা। ত্রিশূলি-৩এ প্রকল্প এলাকায় পৌঁছাতে তারা পাহাড়ের ঢালে বিস্ফোরক ব্যবহার করে পথ তৈরি করছেন। এরপর সেখানে বাতাস প্রবেশ করানো হচ্ছে, যেন আটকে থাকা মানুষগুলো অক্সিজেন পায়। উদ্ধারকারীরা বলছেন, জীবিতদের উদ্ধারের গুরুত্বপূর্ণ সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।
বিবিসি নেপালিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রকল্প এলাকায় নিখোঁজ ৩৩ বছর বয়সী প্রকৌশলী অরুস ভান্ডারির স্ত্রী অনুশিলা ভান্ডারি বলেন, ‘তাকে যেন খুঁজে পাওয়া যায়। আমি চাই সে আবার বাড়ি ফিরে আসুক।’
আকস্মিক এই বন্যায় নেপাল ও চীনে মিলিয়ে মোট মৃতের সংখ্যা ৯৫০ ছাড়িয়েছে। এখনো নিখোঁজ রয়েছেন ৪ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষ।
বেসরকারি বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন) জানিয়েছে, নেপালের রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলার আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্প থেকে অন্তত ৯০০ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। একজন বিশেষজ্ঞের মতে, তাদের কেউ কেউ এখনো অক্সিজেন পাচ্ছেন বলে ধারণা করা যায়। যদিও অন্যরা সতর্ক করে বলেছেন, জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা দ্রুত কমে আসছে।
নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, উদ্ধার অভিযান জোরদারের মধ্যে কাদায় ভরা তিনটি টানেল থেকে চারটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
আইপিপিএএনের সভাপতি মোহন কুমার ডাঙ্গির বরাতে জানা গেছে, গত ২৩ আগস্ট দুর্যোগ আঘাত হানার সময় কয়েকজন শ্রমিক সাহায্যের জন্য ফোন করতে পেরেছিলেন। পরে পালিয়ে আসা আরও কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাদের অনেক সহকর্মী এখনো টানেলের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন।
ডাঙ্গি বলেন, দুর্যোগের ছয় দিন পর আশঙ্কা বাড়ছে যে, আটকা পড়া শ্রমিকদের কেউ কেউ অক্সিজেনের অভাবে মারা যেতে পারেন।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা সোমবার জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৯৩৯ জনের মৃত্যুর তথ্য পাওয়া গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯২৫ জন। যার মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি।
চীনা কর্তৃপক্ষ রোববার পর্যন্ত ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বলেছে, নিখোঁজ ব্যক্তিদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি, যার মধ্যে শতাধিক নেপালি।


