চিত্রনায়ক ওমর সানির একটি ফেসবুক স্ট্যাটাস নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে এনে দিয়েছে তাকে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেওয়া ওই পোস্টে একটি ছবি যুক্ত করে তিনি প্রকাশ্য চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন—আওয়ামী লীগ সরকারের সময় তিনি কোনো রাজনৈতিক সুবিধা নিয়ে থাকলে তার প্রমাণ দেখাতে। এই বক্তব্যের পরপরই নেটিজেনরা আলোচনায় টেনে আনেন তার স্ত্রী, জনপ্রিয় অভিনেত্রী মৌসুমীর রাজনৈতিক অবস্থান।
সোশ্যাল মিডিয়ায় মনে করিয়ে দেওয়া হয়, মৌসুমী একসময় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। সংরক্ষিত নারী আসনে সংসদ সদস্য হওয়ার লক্ষ্যে তিনি সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন। পরে ২০১৯ সালের ১৬ জানুয়ারি তিনি আওয়ামী লীগের ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র কিনতে যান। সেদিন তাকে ঘিরে সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে। তবে শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পাননি মৌসুমী। বর্তমানে তিনি কোনো দলের রাজনীতিতে সক্রিয় নন এবং দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন।
এই বিতর্কের পটভূমিতে রয়েছে নির্বাচনী প্রচারণায় শোবিজ তারকাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ। সম্প্রতি বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রচারণায় মনির খান, রবি চৌধুরী, নায়িকা শিমলাসহ একাধিক তারকা প্রকাশ্যে ধানের শীষে ভোট চেয়েছেন। কিন্তু অতীতে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ছিলেন—এমন অভিযোগে তাদের অনেকেই ট্রলের শিকার হচ্ছেন।
বিশেষ করে নায়িকা শিমলার ঘটনা বিতর্ক আরও উসকে দিয়েছে। তিনি একসময় আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র কিনেছিলেন, অথচ এখন ধানের শীষে ভোট চাইছেন—এ বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপক আলোচিত।
এই প্রেক্ষাপটে ওমর সানির পোস্টকে অনেকেই আত্মপক্ষ সমর্থন এবং নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা হিসেবে দেখছেন। পোস্টটি ১৩ ঘণ্টায় প্রায় ২৯ হাজার রিয়েক্ট ও চার হাজারের মতো মন্তব্য পায়। প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র—কেউ তাকে আওয়ামী লীগের দোসর বলছেন, কেউ আবার অতীত ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনের শেষ সময়ে শোবিজ তারকাদের প্রকাশ্য অবস্থান শুধু ভোটের রাজনীতিতেই নয়, সোশ্যাল মিডিয়ার রাজনীতিতেও বড় প্রভাব ফেলছে। এতে প্রচারণা যেমন জোরদার হচ্ছে, তেমনি অতীত রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে শিল্পীদের কাঠগড়ায় দাঁড় করাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।


