হ্যান্ডশেক নাকি ফিস্ট বাম্প?
বার দুয়েকের চেষ্টার পর কোনো একটাতে স্থির না হতে পেরে ক্ষান্ত দিলেন নেদারল্যান্ডসের অফস্পিনার আরিয়ান দত্ত। যদিও শেষ পর্যন্ত এই ডাচ অফস্পিনার হ্যান্ডশেক করেই পরিচয় পর্বটা সারলেন।
৬ ফুট লম্বা আরিয়ান, জাতীয়তায় ডাচ হলেও তার আদিপুরুষেরা ভারতের পাঞ্জাব প্রদেশের। অবশ্য পাঞ্জাবি হলেও তার জন্ম-বেড়ে ওঠা সবই নেদারল্যান্ডসে। মজার ব্যাপার হচ্ছে, পাঞ্জাবি পরিবারে বেড়ে উঠলেও বলিউডের সিনেমা খুব বেশি দেখেন না তিনি, শোনেন না হিট-সুপারহিট হিন্দি গানও। কিন্তু প্রিয় সিনেমা একটা আছে তার। প্রথম ভারতীয় সিনেমা হিসেবে ২০০ কোটি রুপি আয় করা ‘থ্রি ইডিয়টস’।
শুক্রবার সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে ‘টাইমস অফ বাংলাদেশ’-এর জুবায়ের তানিন শুনেছেন আরিয়ানের ক্রিকেটে আসার গল্প, ক্রিকেট নিয়ে স্বপ্নের কথা। কীভাবে মহেন্দ্র সিং ধোনির একটা ছক্কা দিল তার ক্যারিয়ারের গতিপথ, কেনই বা হলেন অফস্পিনার?
টাইমস অফ বাংলাদেশ-এর পাঠকের জন্য রইল সাক্ষাৎকারের চুম্বকাংশ…
টাইমস: বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত অভিজ্ঞতা কেমন?
আরিয়ান: এখন পর্যন্ত বেশ ভালো। গত মঙ্গলবার এসেছি, এরপর থেকে ট্রেনিংয়েই সময় কাটছে। সব মিলিয়ে বেশ ভালো অভিজ্ঞতা।
টাইমস: আপনার নামে ভারতীয় একটা ছোঁয়া আছে। যতদুর জানি, আপনার পুর্বপুরুষরাও পাঞ্জাব প্রদেশের। ভারত থেকে নেদারল্যান্ডসের যাত্রাটা কেমন?
আরিয়ান: আমি নেদারল্যান্ডসে জন্মেছি, তবে আমার পারিবারিক মূল পাঞ্জাবে। প্রায় ৪০ বছর আগে পাঞ্জাব থেকে নেদারল্যান্ডসে পুরোপুরি বসতি গড়েছিল, যতদূর মনে পড়ে। এরপর থেকে আমার পুরো পরিবারই ওখানে।
টাইমস: ডাচরা তো ফুটবলটাই বেশি পছন্দ করে। ইয়োহান ক্রুইফ, মার্কো ভ্যান বাস্তেনরা দেশের ফুটবল কিংবদন্তি। ফুটবল প্রিয় একটা দেশে কেন ক্রিকেটকে পেশা হিসেবে বেছে নিলেন? আপনার ক্রিকেটার হওয়ার গল্পটা কী?
আরিয়ান: হ্যাঁ, নেদারল্যান্ডসে ফুটবলই সবচেয়ে জনপ্রিয়। প্রথমে আমি ফুটবলই খেলতাম। কিন্তু ২০১১ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালে মহেন্দ্র সিং ধোনির ছক্কাটা দেখে সব বদলে গেছে। ধোনির সেই ছক্কার দারুণ একটা প্রভাব আমার ওপর পড়েছে। তখনই ঠিক করেছিলাম ফুটবল বাদ দিয়ে ক্রিকেটার হব।
টাইমস: বেশ দারুণ গল্প। তো স্পিনার হবেন এমন চিন্তাভাবনা কি শুরু থেকেই ছিল?
আরিয়ান: না শুরু থেকেই এমন ইচ্ছা ছিল না। জুনিয়র লেভেলের ক্রিকেটে ফাস্ট বলই করতাম, আমি পেসার ছিলাম। কিন্তু একটা ইনজুরির পর পেস বল ছেড়ে দিতে হলো। কোভিডের আগেও ২০১৮ সালে কাঁধে বেশ ভালো একটা ফ্র্যাকচার হয়েছিল। সেই থেকে আমি অফস্পিনার।
টাইমস: স্পিনার হিসেবে আপনার আদর্শ কে? কাউকে ওভাবে ফলো করেন?
আরিয়ান: আদর্শ…আমার মনে হয় না আপনার কাউকে না কাউকে আদর্শ মানতেই হবে। তবে রবিচন্দ্রন অশ্বিন, নাথান লায়নের মতো স্পিনারদের খেলা আমি নিয়মিতই দেখতাম। ওহ হরভজন সিংও আছে।
টাইমস: সাদা বলের ক্রিকেট তো দিনকে দিন আরো প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক হচ্ছে। বোলারদের জন্য টিকে থাকা, পারফর্ম করাটাও বেশ কষ্টসাধ্য হয়ে পড়ছে। ক্যারম বল, দুসরার মতো কোনো স্পেশাল ডেলিভারি নিয়ে কাজ করছেন কি?
আরিয়ান: না, এখন আসলে ওসব কিছু নিয়ে কাজ করছি না।
টাইমস: বোলিংয়ে ডিসিপ্লিন আর অ্যাকুরেসির জন্য বেশ পরিচিতি আছে। আপনার শক্তির জায়গা কোনটা আসলে?
আরিয়ান: আশা করি এই সিরিজে দেখতে পাবেন! (হাসি)
টাইমস: আগামী পাঁচ বছর পর নিজেকে কোথায় দেখতে চান?
আরিয়ান: বেশ ভালো একটা প্রশ্ন। আগামী বছর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আছে। তবে সেটা নিয়ে ভাবছি না। আমার সব ফোকাস এখন এই সিরিজেই। এরপর যাব বিশ্বকাপে। আর পাঁচ বছর কী হবে না হবে, ব্যক্তিগতভাবে এভাবে আমি কখনো চিন্তা করি না।
টাইমস: ২০২৩ বিশ্বকাপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দুই উইকেট পেয়েছিলেন। আগের রাতে আমিও একটা ভিডিও দেখছিলাম, সেই ম্যাচে আপনার বাবা ছিলেন গ্যালারিতে। খুশিতে তালি বাজাচ্ছিলেন, আপনার জন্য উল্লাস করছিলেন। এক পর্যায়ে আপনিও হাত নেড়েছেন বাবার দিকে। কেমন লাগে আসলে, যখন পরিবারের কেউ থাকে গ্যালারিতে খেলা দেখার জন্য?
আরিয়ান: খুব, খুব স্পেশাল ছিল দিনটা। আসলে নতুন না আমার জন্য। জুনিয়র লেভেলে খেলার সময় থেকেই পরিবারের সবাই আমার খেলা দেখতে যেত। ক্রিকেট খেলার জন্য আমাকে কখনোই পরিবারের সাথে লড়তে হয়নি। সবসময়ই ওই সমর্থনটা আমি পেয়েছি।
টাইমস: এবার একটু অন্য প্রশ্ন করি, পাঞ্জাবি পরিবারে বেড়ে উঠেছেন, ভারতীয় একটা কানেকশন তো আছেই। বলিউডের সিনেমা বা গান শোনা হয়?
আরিয়ান: আসলে সিনেমা দেখি না। তবে অল্পবিস্তর যা দেখেছি, সেখান থেকে একটা প্রিয় সিনেমা আছে ‘থ্রি ইডিয়টস’। এটাই আমার সবচেয়ে প্রিয়।
টাইমস: শেষদিকে এসে পড়েছি প্রায়। ক্রিকেট নিয়ে আপনার সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা কী?
আরিয়ান: স্বপ্ন হচ্ছে দেশের হয়ে টেস্ট ক্রিকেট খেলা। এটাই সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। কিন্তু আমাদের দেশে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটের কোনো কাঠামো নেই। আশা করছি হবে কোনো একদিন…