ম্যাচ চলাকালে অনলাইন গ্যাম্বলিং, চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার

ম্যাচ চলাকালে অনলাইন গ্যাম্বলিং, চট্টগ্রামে ৬৩ বিদেশি গ্রেপ্তার
ছবি: সৌজন্যে
Advertisement
Advertisement

কোনো খেলা সম্প্রচারের সময় মোবাইল বা কম্পিউটারের পর্দায় হঠাৎ ভেসে ওঠে অনলাইন ক্যাসিনোর বিজ্ঞাপন। বিজ্ঞাপনে ক্লিক করলে ঢুকে পড়া যাচ্ছে জুয়ার ওয়েবসাইটে। এই বিজ্ঞাপন প্রচার ও অনলাইনভিত্তিক কার্যক্রমের সঙ্গে চট্টগ্রামের খুলশীতে গ্রেপ্তার হওয়া ৬৩ বিদেশি নাগরিকের যোগসূত্র পেয়েছে পুলিশ।

পাঁচ দেশের এসব নাগরিক কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে এসে প্রায় দেড় মাস আগে একটি বাসা ভাড়া নিয়েছিলেন। সেখানে বসেই বিভিন্ন দেশের অনলাইন ক্যাসিনো সাইট, অনলাইন প্রতারণা ও ডিজিটাল লেনদেনের কার্যক্রম চালানো হচ্ছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

বৃহস্পতিবার বিকাল থেকে শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত খুলশীর কৃষ্ণচূড়া আবাসিক এলাকার ৪ নম্বর সড়কের ওই বাড়িতে অভিযান চালায় চট্টগ্রাম নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশ। সেখান থেকে চীন, পাকিস্তান, লাওস, নেপাল ও ভিয়েতনামের ৬৩ নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়। এতে ২১ জন নারীও রয়েছেন।

অভিযানে পাওয়া গেছে ১৩৪টি মোবাইল ফোন ও ৫৭টি ল্যাপটপ। এর বাইরে একটি অ্যাপল ট্যাব, সিপিইউ, মনিটর, প্রিন্টার, পাঁচটি পেনড্রাইভ, চারটি সিমকার্ড, তিনটি পাকিস্তানি জাতীয় পরিচয়পত্র ও একটি কম্বোডিয়ান এমপ্লয়মেন্ট কার্ড উদ্ধার করা হয়।

একটি আবাসিক ভবনের ভাড়া বাসায় ৬৩ জন বিদেশির অবস্থান এবং এত বিপুলসংখ্যক ডিজিটাল ডিভাইসের ব্যবহার তদন্তে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। কোন কোন ওয়েবসাইটে এসব ডিভাইস ব্যবহার করা হয়েছে, কার সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং অর্থ লেনদেনের তথ্য রয়েছে কিনা, তা পরীক্ষা করছে পুলিশ।

শুক্রবার বিকালে সিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, সুনির্দিষ্ট গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযানটি চালানো হয়েছে। এর আগে কক্সবাজারে একটি বিদেশি চক্রকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। ওই ঘটনার পর চক্রটির কিছু সদস্য বা সংশ্লিষ্ট গ্রুপ চট্টগ্রামে এসে অবস্থান নেয় কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ভবনটির স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের কয়েকজন মোটরসাইকেলে চলাফেরা করলেও অধিকাংশই গাড়িতে আসা-যাওয়া করতেন। দেড় মাস ধরে তারা ওই বাসায় থাকলেও সেখানে কী ধরনের কার্যক্রম চলত, তা স্থানীয়দের কাছে স্পষ্ট ছিল না।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে চক্রটির দেশীয় ও বিদেশি সহযোগীদের বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও কয়েকজন সহযোগী থাকতে পারেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে আর্থিক প্রতারণা, জালিয়াতি ও কর্তৃত্বের বাইরে ই-ট্রানজেকশনের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের তথ্যও পেয়েছে পুলিশ। চক্রটির সঙ্গে ক্রিপ্টোকারেন্সির যোগাযোগ ছিল কি না, সেটিও অনুসন্ধান করা হচ্ছে।

সিএমপির খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিম বলেন, এখন মূল প্রশ্ন শুধু ৬৩ বিদেশি কী করছিলেন, তা নয়। ম্যাচ চলাকালে প্রচারিত অনলাইন ক্যাসিনোর বিজ্ঞাপন কারা পরিচালনা করত, বিজ্ঞাপনে আসা ব্যবহারকারীদের টাকা কোন পথে যেত, বিদেশি ক্যাসিনো সাইটের সঙ্গে চট্টগ্রামের এই বাসার যোগাযোগ কীভাবে ছিল এবং কক্সবাজার থেকে চট্টগ্রামে আসার পর তাদের নেটওয়ার্ক কতটা বিস্তৃত হয়েছে- এসব প্রশ্নের উত্তর খোঁজা হচ্ছে।

গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে খুলশী থানায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

ওসি বলেন, জব্দ করা ল্যাপটপ খতিয়ে দেখা গেছে তারা নিজস্ব ভাষা ব্যবহার করছে। তাদের অনেকেরই পাসপোর্ট নেই। ইতোমধ্যে গ্রেপ্তার নাগরিকদের পরিবার ও কয়েকটি দূতাবাস যোগাযোগ করেছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর