প্রায় ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী সিলেটের হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার শরীফের বার্ষিক পবিত্র ওরস মোবারক গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এবারই প্রথম ওরস উপলক্ষে কোনো শিরনি বিতরণ করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে ভক্ত অনুরাগীদের মধ্যে এক ধরনের ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এবার ওরসের আনুষ্ঠানিকতায় পবিত্র খতমে কোরআন, দোয়া, জিকির, মিলাদ, গিলাফ চড়ানো, ফাতেহা পাঠ ও আখেরি মোনাজাতের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়।
শিরনির বিষয়ে শাহপরান (রহ.) মাজারের খাদেম আব্দুল আজিজ বলেন, ‘শিরনি বিতরণের সময় মারামারি হতে পারে। এছাড়া “মবের” ভয় দেখিয়ে মাজার কর্তৃপক্ষকে শিরনি বিতরণ বন্ধ রাখতে বলা হয়। তাই প্রশাসনের নির্দেশনায় এবার শিরনি বিতরণ করা হয়নি।’
পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি রেজাউল কিবরিয়া বলেন, ‘বিগত কোনো সময়ই শাহপরান মাজারে শিরনি বিতরণ নিয়ে মারামারি হতে শুনিনি। এবার যদি মব বা মারামারির অজুহাতে শিরনি বিতরণ কার্যক্রম বন্ধ করা হয় তাহলে এটা খুবই অন্যায় একটা সিদ্ধান্ত। প্রশাসন ভূমিকা নিচ্ছে, কিন্তু চোখ-কান বন্ধ রেখে হাত পা গুটিয়ে। ওরসের শিরনিও এটাও একটি ঐতিহ্য। ধর্মীয় দিক ছাড়াও শিরনি বিতরণ আমাদের সংস্কৃতির অংশ। আমরা কোনো ভাবেই শিরনি বিতরণের বন্ধের পক্ষে না।’
ওরস উপলক্ষে হযরত শাহপরান (রহ.) মাজার ওরসকে কেন্দ্র করে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয় প্রশাসন। ওরস শুরুর আগে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সভা করে। এ সময় সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের বিভিন্ন পদমর্যাদার কর্মকর্তা, ডিজিএফআই, এনএসআই, র্যাব-৯, অধিনায়ক, ৩৪ বীর, সিলেট জেলা স্টেডিয়াম আর্মি ক্যাম্প, সিলেট সিটি কর্পোরেশন, সিভিল সার্জন সিলেট, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সিলেট, ইসলামিক ফাউন্ডেশন সিলেট, ইমাম সমিতি সিলেট, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা, অসামাজিক ও অনৈসলামিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির সদস্য, হযরত শাহ্পরান (রহ.) সিলেট মাজার কমিটির সদস্য এবং হযরত শাহপরান (রহ.) মাজারের মোতাওয়াল্লি ও খাদেমসহ বিভিন্ন সংস্থার সদস্য ও প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য মাজার ও আশপাশের এলাকায় পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করতে ড্রোন ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো এলাকা মনিটরিং করা হবে। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের নিয়ে তদারকি কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যান্য যেকোন বছরের তুলনায় এবার নিরাপত্তা ব্যবস্থা সর্বোচ্চ রয়েছে।
ঐতিহাসিকদের মতে, শাহপরাণের মাজার সিলেট শহরের একটি পুণ্য তীর্থ বা আধ্যাত্মিক স্থাপনা; যা ১৩০৩ খ্রিষ্টাব্দে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বাংলাদেশে আসা ইসলাম প্রচারক শাহজালালের অন্যতম সঙ্গী অনুসারী শাহপরাণের সমাধি।
সিলেট শহর থেকে প্রায় ছয় মাইল পূর্বদিকে খাদিমনগর এলাকায় টিলার উপর একটি প্রকাণ্ড বৃক্ষের নিচে রয়েছে হযরত শাহপরাণ (র.) মাজার। মাটি থেকে প্রায় ১৫-২০ ফুট উচ্চতায় উঠার জন্য মোগল আমলে নির্মিত অনেকগুলো সিঁড়ি রয়েছে। ইতিহাসে কথিত আছে তিনি হযরত শাহ জালাল (রহ.) সম্পর্কে ভাগিনা হন।