সিলেটের আকাশে তখন গনগনে রোদ। রবিবার দুপুরের সূর্যের তেজে চোখ পাতা দায় মাঠের দিকে। এর মাঝেই ড্রেসিংরুম থেকে মিডিয়া সেন্টারের দিকে হনহনিয়ে হেঁটে এলেন নেদারল্যান্ডস দলের মিডিয়া ম্যানেজার কোরে রুটগার্স। বন্ধুত্বসূলভ বাচনভঙ্গি আর হাসিখুশি আচরণে অল্প কদিনেই বেশ পরিচিত আর জনপ্রিয় হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশি সাংবাদিকদের মাঝে। তার আড্ডা চলছিল মিডিয়া সেন্টারের সামনে। ঐচ্ছিক অনুশীলন থাকায় দলের সবাই আসেননি। অল্প যে ক’জন এসেছিলেন, তাদের মধ্যে আলাদা করে নজর কেড়েছেন ম্যাক্স ও’ডাউড।
পকেটে মোবাইল, সতীর্থদের সাক্ষাৎকার দেয়ার দৃশ্য ধারণ করছিলেন ‘ওসমো’ নামের একটা ডিভাইসে। তার এই সত্তার সাথে এই কদিন সবাই পরিচিত হয়ে গেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে। ভ্লগিং করেন, নিজের একটা ইউটিউব চ্যানেলও তার আছে। আর ডাচ দল বাংলাদেশে আসার দিনের ভিডিও কন্টেন্টও তারই ধারণ করা। তবে যেটা অপ্রত্যাশিত ছিল, সাংবাদিক হিসেবে তাকে দেখা।
সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারে বসার জায়গা খুব বেশি বড় নয়। বড়জোর জনা ত্রিশেকের বসার ব্যবস্থা আছে। সেখানেই জায়গা খুঁজে নিয়ে বসে পড়লেন ম্যাক্স। সংবাদ সম্মেলন শুরুর আগে ডাচ দলের মিডিয়া ম্যানেজারও বললেন, ‘আজ ম্যাক্স আপনাদের সাথে সাংবাদিক হিসেবে থাকবেন।’
মাঠের ক্রিকেটারকে সাংবাদিক হিসেবে দেখা নিঃসন্দেহে ভিন্নতা যোগ করে। ম্যাক্স সেখানে যোগ করলেন আরও দারুণ কিছু। দুটো প্রশ্ন করলেন সতীর্থ নোয়াহ ক্রোয়েসকে। প্রথমটা এমন, ‘তোমার টংকার নামের রহস্যটা কী?’
হেসে হেসে ক্রোয়েস উত্তর দিলেন, ‘ধন্যবাদ ম্যাক্স। তুমি তো জানোই আমাদের মিডিয়া ম্যানেজার এই নামটা দিয়েছে। আর তুমিও তার কথায় বেশ সায় দাও, বুঝাই যাচ্ছে।’
সাধারণত বিদেশি কোনো দল এলে, তাদের ক্রিকেটারদের যে প্রশ্নটা বাংলাদেশি সাংবাদিকরা করেন, সেটার দায়িত্ব তুলে নিলেন ম্যাক্স নিজেই। ক্রোয়েসকে দ্বিতীয় প্রশ্নে জিজ্ঞেস করলেন, ‘তোমার প্রিয় বাংলাদেশি ক্রিকেটার কে?’
এই প্রশ্নের তারিফ করে ক্রোয়েস বলেন, ‘বেশ ভালো প্রশ্ন করেছো ম্যাক্সি। এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গেলে আমার অনেকগুলো নামই বলতে হবে। তবে মোস্তাফিজুর রহমানকে এড়িয়ে যাওয়া মুশকিল। ২০২৪ সালের বিশ্বকাপে খেলেছি, এর আগে ওয়ানডে বিশ্বকাপেও খেলার অভিজ্ঞতা। তাকে ফেস করে বেশ দারুণ লেগেছে।’