ল্যাপটপে কর কমলেও স্মার্টফোনে ছয় গুণ বেশি, বৈষম্যের অভিযোগ

ল্যাপটপে কর কমলেও স্মার্টফোনে ছয় গুণ বেশি, বৈষম্যের অভিযোগ
রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি) আয়োজিত সেমিনার। ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

সদ্য পাস হওয়া অর্থ বিল ২০২৬-এ ল্যাপটপ, কম্পিউটার, প্রিন্টার ও মনিটরের মতো পণ্য আমদানিতে কর ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ কমানো হলেও স্মার্টফোনের ওপর কর ব্যাপকভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা। তাদের হিসাবে, ল্যাপটপ আমদানিতে কর মাত্র সাড়ে ৯ শতাংশ হলেও স্মার্টফোন আমদানিতে তা ৬২ শতাংশ, যা ছয় গুণেরও বেশি।

বুধবার রাজধানীর বিডিবিএল ভবনে টেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি পলিসি অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (টিআইপিএপি) আয়োজিত এক সেমিনারে এই তথ্য উঠে আসে। “টেলিকম ও প্রযুক্তি খাতে বাজেটের প্রভাব” শীর্ষক এই সেমিনারে অর্থ বিল ২০২৬-এর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন তথ্যপ্রযুক্তি উদ্যোক্তা, টেলিকম বিশেষজ্ঞ ও প্রযুক্তিবিদেরা।

টিআইপিএপির আহ্বায়ক ও বিডিজবসের প্রতিষ্ঠাতা ফাহিম মাশরুর মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। তিনি বলেন, বেশিরভাগ সাধারণ নাগরিক এখন কম্পিউটারের কাজ স্মার্টফোন দিয়েই করেন। এই বাস্তবতায় স্মার্টফোনের ওপর উচ্চ কর আরোপ যৌক্তিক নয়।

তিনি আরও বলেন, গুটিকয়েক বিদেশি মালিকানাধীন স্মার্টফোন সংযোজন প্রতিষ্ঠানের স্বার্থেই এই নীতি নেওয়া হয়েছে। মোবাইল ডেটার ওপর ২০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট বহাল রাখাও ডিজিটাল বৈষম্য দূর করার পথে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

টেলিকম বিশেষজ্ঞ মাহতাব উদ্দিন বলেন, টেলিকম কোম্পানিগুলো নিজেদের স্বার্থে লবি করে সিমের ওপর তিনশ টাকা কর কমিয়েছে এবং অগ্রিম আয়কর কমানোরও সুবিধা নিয়েছে। এতে টেলিকম কোম্পানিগুলোর মুনাফা বাড়বে, কিন্তু উচ্চ করের কারণে সাধারণ গ্রাহকরা কোনো সুবিধা পাবেন না।

আরও পড়ুন

তিনি বলেন, প্রতি ১০০ টাকার টকটাইমে একজন সাধারণ গ্রাহককে সরকারকে ৪০ টাকার বেশি দিতে হয়, যা এশিয়ার যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি।

শেয়ার ট্রিপের প্রধান নির্বাহী সাদিয়া হক স্টার্টআপ খাতে সরকারের বিভিন্ন সহায়তার জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি বলেন, নতুন নীতিগুলোর সুফল যাতে স্টার্টআপ প্রতিষ্ঠানগুলো সহজে পেতে পারে, সে ব্যবস্থা জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে নিশ্চিত করতে হবে।

ড্রিম ৭১ এর প্রধান রাশাদ কবির বলেন, সফটওয়্যার শিল্পের আয়কর অব্যাহতি সুবিধার মেয়াদ ২০২৭ সালে শেষ হয়ে যাচ্ছে। এই সুবিধা আরও বাড়ানো উচিত, কারণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে বিপুল বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে। সফটওয়্যার খাতে ব্যাংক ঋণের প্রবেশ সীমিত হওয়ায় মুনাফার অর্থই এই খাতে বিনিয়োগের প্রধান উৎস বলে জানান তিনি।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন বেশ কয়েকজন তথ্যপ্রযুক্তি সাংবাদিক ও উদ্যোক্তা।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad