মিঠু খান পরিচালিত ‘নীলচক্র’-এ প্রশংসিত হয়েছিল মন্দিরা চক্রবর্তীর অভিনয়। এরপর অনেকগুলো ছবিতে অভিনয়ের প্রস্তাব আসলেও তিনি কোনটিকে হ্যাঁ বলেননি। কারণ হিসেবে জানালেন, তিনি একটু সময় নিয়ে বুঝে শুনে এগোতে চান। তবে ছবি বাছাইয়ের ক্ষেত্রে মাশালা টাইপ ছবিকে প্রাধান্য দিবেন।
‘একদম মাশালা টাইপের সিনেমায় কাজ করতে চাই। আমি নাচের মেয়ে। এখন পর্যন্ত যেসব ছবিতে অভিনয় করেছি, তেমনভাবে নাচের মুনশিয়ানা দেখানোর সুযোগ পাইনি। আমি যেমন পিওর রোমান্টিক গানে পারফর্ম করতে চাই, তেমনি আইটেম গানেও নিজেকে উপস্থাপন করতে চাই,’—বলেন মন্দিরা।
‘নীলচক্র’ মুক্তির পর কেন কোন ছবিতে এখনো চুক্তিবদ্ধ হননি। এ ব্যাপারে মন্দিরার বক্তব্য, ‘আমার কাছে সাতটি ছবির প্রস্তাব এসেছে। গল্প শুনেছি, শুনছি। এর মধ্যে চারটি ছবিতে শরীফুল রাজকে নায়ক হিসেবে ভেবেছেন পরিচালক। অন্য তিনটির মধ্যে প্রথম সারির দুজন নায়ক রয়েছেন। আমি ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিতে চাইছি। চাই, যেটা করব, সেটা নিয়ে যেন আলোচনা হয়, সমাদৃত হয়।’
তিনি আরও বলেন “প্রথম ছবি ‘কাজল রেখা’ দিয়ে সারা দেশের মানুষ আমাকে চিনেছে। এই ছবিতে যে ধরনের চরিত্রে দর্শক আমাকে দেখেছে ‘নীলচক্র’ ঠিক তার উল্টো। এখন তৃতীয় ছবিটাতে যদি আরো ভিন্ন রূপে হাজির না হতে পারি তাহলে কিভাবে হবে? তৃতীয় ছবিটায় নিজের অভিনয় সত্তাটা আরো শক্তভাবে তুলে ধরতে চাই। ইস! আমাদের দেশে যদি ‘তাল’-এর মতো ছবি হতো? আমি নাচের মানুষ। একদম দারুণ করে চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে পারতাম। কেউ কি আছেন এমন ধরনের গল্প নিয়ে ছবি নির্মাণের জন্য।”

শোবিজে কাজ করতে গেলে অনেক সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। এ সমালোচনাকে খারাপ চোখে দেখেন না মন্দিরা। ‘পৃথিবীতে কোনো মানুষই শতভাগ পারফেক্ট নন। একজনের কোনো দিক ভালো তো অন্যদিক তুলনামূলক কম ভালো। দর্শক আলোচনা–সমালোচনা করবেনই। আমি কখনোই ভাবি না যে সবাই আমাকে পছন্দ করবেন বা প্রশংসা করবেন। এটা কারও পক্ষেই সম্ভব নয়। বড় পর্দায় আমি একেবারেই নতুন। শেখার অনেক বাকি আছে। প্রতিনিয়ত শিখছি, শিখতে চাই আরও। দিন শেষে কেউ যখন বলেন, এখানে দুর্বলতা আছে, ওখানে দুর্বলতা আছে, আমি মনে করি, তাঁরা আমার মঙ্গল চান বলেই এমন মন্তব্য করেছেন। যেন আগামী দিনে আরও ভালোভাবে কাজ করতে পারি। সমালোচনা মানুষকে পরিশুদ্ধ করে, এগিয়ে যেতে সহায়তা করে।’
ওটিটিতে আপতত কাজ করতে চান না মন্দিরা। এখন পর্যন্ত সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেননি তিনি। ‘আমি চাই দর্শক টাকা দিয়ে টিকিট কিনে আমাকে দেখুন। গেল দুদিনে দুটি ওয়েব ছবির প্রস্তাব পেয়েছি। না বলে দিয়েছি। যেহেতু সিনেমার প্রস্তাব পাচ্ছি একের পর এক, বিশ্বাস আছে শিগগির কোনো একটা ছবি লক হবে। শুটিংয়েও ফিরতে পারব।’
নাচের মেয়ে মন্দিরা বর্তমানে ‘স্বর্ণ মুকুট নৃত্যরত্ন পুরস্কার ২০২৫’ নামের একটি নৃত্যপ্রতিযোগিতায় বিচারকের দায়িত্ব পালন করছেন। তবে এটি প্রথমবার নয়। তিনি বলেন, “২০১৩ সালে প্রথম এই দায়িত্ব পালন করেছিলাম ‘জাতীয় কম্পিটিশন’-এর জেলা পর্যায়ের বাছাই পর্বে। এরপর চ্যানেল আইয়ের ‘সেরা নাচিয়ে ২০১৫ ও ২০১৬ সালেও বিচারকের দায়িত্ব পালন করেছিলাম।”
মন্দিরা চক্রবর্তী অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কাজলরেখা’। গিয়াসউদ্দিন সেলিম পরিচালিত এই ছবিতে নামভূমিকায় অভিনয় করে আলোচনায় আসেন তিনি। চ্যানেল আইয়ের রিয়েলিটি শো ‘সেরা নাচিয়ে’ দিয়ে বিনোদন অঙ্গনে পথচলা শুরু করেন মন্দিরা। এরপর ‘কাজলরেখা’ ছবিটি তাকে আরও পরিচিতি এনে দেয়। এতে তার বিপরীতে ছিলেন শরীফুল রাজ। এরপর ‘নীলচক্র’ ছবিতে অভিনয় করেন আরিফিন শুভর বিপরীতে।