টাঙ্গাইলের মধুপুরে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশন ও রাবার বাগান কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে আদিবাসীদের বসতভিটা উচ্ছেদের চেষ্টার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিশিষ্ট নাগরিকদের একটি প্রতিনিধি দল। গত ৯ মার্চ উপজেলার চাঁদপুর এলাকায় আদিবাসীদের ওপর এই হামলার ঘটনা ঘটে।
সোমবার ‘সিটিজেনস ফর হিউম্যান রাইটস’-এর একটি প্রতিনিধি দল মধুপুরের এই পরিস্থিতি দেখতে যায়। প্রতিনিধি দলে ছিলেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সাবেক সাধারণ সম্পাদক রুহিন হোসেন প্রিন্স, বিশিষ্ট লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ, নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন, মানবাধিকার কর্মী দীপায়ন খীসা, আদিবাসী যুব ফোরামের সভাপতি টনি ম্যাথিউ চিরান, ব্লাস্ট টাঙ্গাইলের আইনজীবী শামসুন্নাহার লিজা এবং বাংলাদেশ আদিবাসী যুব ফোরামের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক সতেজ চাকমা। স্থানীয় কুরাগাছা ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য অর্চনা নকরেক সহ স্থানীয় আদিবাসী নেতারা এ সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন।
পরিদর্শনের সময় স্থানীয়রা জানান, ৬০ বছর বয়সী রমেন কুবি আট বছর আগে উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত পাঁচ শতাংশ জমির ওপর বাড়ি নির্মাণ করেছিলেন। সম্প্রতি তিনি বসতঘর বড় করার কাজ শুরু করলে বন শিল্প উন্নয়ন করপোরেশনের অধীনস্থ রাবার বাগানের মাঠ কর্মকর্তার নেতৃত্বে একদল আনসার সদস্য তাকে বাধা দেন। তারা আদিবাসী এই পরিবারের রোপণ করা আম ও কাঁঠাল গাছ উপড়ে ফেলেন এবং নবনির্মিত ঘরের খুঁটি ভেঙে দেন।
ঘটনার সময় আনসার সদস্যরা ওই গারো পরিবারের এক নারী সদস্যের দিকে রাইফেল তাক করে ভীতি প্রদর্শন করেন বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে রুহিন হোসেন প্রিন্স জানান, তারা আক্রান্তদের পাশে দাঁড়াতে এসেছেন। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসনের তাৎক্ষণিক সাড়াকে ইতিবাচক উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও নেতৃবৃন্দকে সর্বদা সজাগ থাকতে হবে।
নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপের প্রশংসা করে জানান, অভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে প্রশাসনের এমন উদ্যোগ আশাব্যঞ্জক। তবে তিনি কোনো নাগরিক যেন এভাবে আক্রান্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেদিকে প্রশাসনকে আরও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
লেখক ও গবেষক আলতাফ পারভেজ বলেন, প্রশাসনের পদক্ষেপ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি কেন তৈরি হলো তা খতিয়ে দেখা জরুরি। রাষ্ট্রের কোনো নাগরিক যেন হয়রানির শিকার না হন তা নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, বন ও ভূমি রক্ষার লড়াইয়ে টিকে থাকতে হলে গারো, কোচ ও বর্মনসহ সকল আদিবাসীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।
উল্লেখ্য, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মির্জা জুবায়ের হোসেন ১০ মার্চ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে রাবার বাগান কর্তৃপক্ষ ও ক্ষতিগ্রস্ত রমেন কুবি-শিবলী মাংসাং দম্পতির সঙ্গে কথা বলেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে ওই পরিবারকে দুই বান্ডেল ঢেউটিন ও ছয় হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় বহনের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ইউএনও এবং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) না জানিয়ে ভবিষ্যতে এ ধরনের কোনো অভিযান না চালাতে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়।


