পুরোনো বন্দোবস্তের সঙ্গে আপস নয়: নাহিদ ইসলাম

টাইমস ন্যাশনাল
3 Min Read
বাগেরহাট শহরের রেল রোড এলাকায় আয়োজিত দলের এক সমাবেশে নাহিদ ইসলাম বক্তব্য দেন। ছবি: এনসিপির ফেসবুক পেজ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের শক্তি, এই তরুণ প্রজন্ম কোনো নির্বাচনী ভাগ–বাঁটোয়ারায় বিশ্বাস করে না। কোনো নির্বাচনী ভাগ-বাঁটোয়ারায় তারা পুরোনো বন্দোবস্তের সঙ্গে আপস করবে না।’

তিনি বলেন,  ‘রাষ্ট্র সংস্কার এবং দেশ পুনর্গঠন করতে হবে। এর জন্য দরজা খোলা রয়েছে। আপনারা সেই দরজায় এখনো যদি না আসেন, এখনো যদি সংস্কারের পথে না আসেন, পুরোনো বন্দোবস্তকে যদি সমর্থন করেন, চাঁদাবাজ মাফিয়া ও দুর্নীতির রাজনীতিকে যদি টিকিয়ে রাখেন, জনগণ কীভাবে আপনাদের বিরুদ্ধে নামছে, আপনারা কি দেখছেন সেটা? বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্রসমাজ কীভাবে আবার রাজপথে নামছে চাঁদাবাজ–দখলদারদের বিরুদ্ধে, আপনারা দেখে এখনই হুঁশিয়ার হোন।’

শনিবার রাতে বাগেরহাট শহরের রেল রোড এলাকায় আয়োজিত দলের এক সমাবেশে নাহিদ ইসলাম এসব কথাগুলো বলেন।

এর আগে, ইউএনবিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক মিত্র জামায়াতে ইসলামীকে সঙ্গে নিয়ে নির্বাচনী জোট গঠনের সম্ভাবনা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন বিএনপির নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ। তবে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগ পর্যন্ত এনসিপির সঙ্গে আলোচনার দরজা খোলা রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম স্বৈরাচারী হাসিনার বিরুদ্ধে। আমরা গণঅভ্যুত্থান করেছিলাম এই মাফিয়া, দুর্নীতিবাজ, চাঁদাবাজ সিস্টেমের বিরুদ্ধে। এই চাঁদাবাজদের আমরা এখনো বিতাড়িত করতে পারিনি বিধায় আমরা আবারও রাজপথে নেমে এসেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা আমাদের প্রতি আস্থা রাখুন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই চাঁদাবাজ, দুর্নীতি ও মাফিয়া সিস্টেমকে পরিবর্তন করব অবশ্যই। এটা শহীদদের প্রতি আমাদের কমিটমেন্ট।’

‘আমাদের সেই ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। বিচার, সংস্কার এবং নতুন সংবিধানের মাধ্যমেই আমাদের সামনের দিকে এগোতে হবে। আমরা কোনো দলের বিরোধিতা করি না, কোনো দলের বিপক্ষে বলি না। আমরা বলি পুরোনো বন্দোবস্তের বিপক্ষে। আমরা বলি পুরোনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির বিপক্ষে,’ যোগ করেন নাহিদ ইসলাম।

দেশ গড়তে জুলাই পদযাত্রা কর্মসূচির ১২তম দিনে বাগেরহাটে আসেন এনসিপির নেতারা। বাগেরহাট শহরের এই সমাবেশ শনিবার বিকেলে শুরু হওয়ার কথা থাকলেও পথের বিলম্বের কারণে নেতারা সমাবেশস্থলে আসেন রাত আটটার দিকে। এরপর শুরু হয় সমাবেশ।

পুরান ঢাকায় নৃশংসভাবে ব্যবসায়ীকে হত্যার প্রসঙ্গ টেনে সমাবেশে এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘খুনি হাসিনাকে আমরা দেশ থেকে তাড়িয়েছি, সোহাগের খুনিদেরও আমরা বাংলাদেশে স্থির হতে দেব না। আমরা সরকারের কাছে বলতে চাই, সংস্কার শুধু নীতিতে হলে হবে না। যারা নীতি প্রয়োগ করেন—আমলা, সচিব ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী—তাদেরও সংস্কার করতে হবে। এসব স্থানে এখনো আওয়ামী দোসররা ওত পেতে বসে আছে। তাদের অবিলম্বে বিচারের আওতায় দাঁড় করাতে হবে।’

সমাবেশে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন এনসিপির মুখ্য সমন্বয়কারী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা প্রমুখ। অন্যান্যের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব সামান্তা শারমিন

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *