তিন ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়ে হারল বাংলাদেশ

তিন ক্যাচ মিসের মাশুল দিয়ে হারল বাংলাদেশ
স্বর্ণা আক্তারের এই ছবিটাই হয়ে রইল বাংলাদেশের প্রতিচ্ছবি। ছবি: আইসিসি
Advertisement
Advertisement

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ম্যাচের বিভিন্ন পর্যায়ে একে একে তিনটা ক্যাচ ফেলেছেন বাংলাদেশের ফিল্ডাররা। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে লরা উলভার্টের ব্যাট থেকে আসা ফিরতি ক্যাচ মিস করেছেন রাবেয়া খান। জীবন পেয়ে এই ডানহাতি করেছেন ৩১ রান। ৪৪তম ওভারে মিড উইকেটে রাবেয়ার বলে ক্লোই ট্রায়নকে দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছেন বদলি ফিল্ডার সুমাইয়া আক্তার। ট্রায়ন থেমেছেন ৬২ রানে। তবে ৪৯তম ওভারে স্বর্ণার ফেলা ক্যাচটাই শেষ পর্যন্ত গড়ে দিল পার্থক্য। আগের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেতানো নাদিন ডি ক্লার্কের মারা শটে লং অফে বলটা হাতে রাখতে পারেননি স্বর্ণা। সেই নাদিনই সোমবার ম্যাচ জিতিয়েছেন ২৩৩ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নামা প্রোটিয়াদের। বিশাখাপত্তনমে প্রোটিয়াদের কাছে বাংলাদেশ হারল ৩ উইকেটে, ৩ বল বাকি থাকতে। টানা তৃতীয় হারে ফিকে হয়ে গেল সেমির স্বপ্নও।

রান তাড়ায় শুরুতেই প্রোটিয়াদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন নাহিদা আক্তার। ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারেই দারুণ ছন্দে থাকা তাজমিন ব্রিটসকে ফিরতি ক্যাচে ফেরান তিনি। এরপর পঞ্চম ওভারে লরা উলভার্টকে ফেরানোর সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ, কিন্তু রাবেয়া খাতুনের হাতে ধরা সহজ ক্যাচটি ছুটে যায়। তখন উলভার্টের রান মাত্র ১১। জীবন পেয়ে প্রোটিয়া অধিনায়ক আনেক বশকে সঙ্গে নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৫৫ রানের জুটি। ১৫তম ওভারের শেষ বলে ভুল বোঝাবুঝিতে রান আউট হয়ে ৩১ রানে ফেরেন উলভার্ট।

পরের ওভারে রিতু মনির বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২৮ রান করা বশ। এরপর রাবেয়ার দুর্দান্ত লেগ-স্পিনে আনেরিক ডেরেকসন বোল্ড হলে চাপে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। উইকেটরক্ষক সিনালো জাফটাও বোল্ড হন ফাহিমা খাতুনের বলে। মাত্র ৭৮ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকা প্রোটিয়া ইনিংস উদ্ধার করেন ক্লো ট্রায়ন ও মারিয়ান ক্যাপ। দুজন মিলে ১০৯ বলে গড়েন ৮৫ রানের লড়াকু জুটি।

৪১তম ওভারে এই জুটি ভাঙেন নাহিদা। ছক্কা মারতে গিয়ে সীমানার কাছে ধরা পড়েন ৭১ বলে ৫৬ রান করা ক্যাপ। এরপরই ট্রায়নকে ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেন রাবেয়া, কিন্তু বদলি ফিল্ডার সুমাইয়া আক্তার সহজ ক্যাচ ছেড়ে দেন। জীবন পেয়ে ট্রায়ন দ্রুতই ফিফটি পূর্ণ করে বাংলাদেশের হতাশা বাড়ান। একই ওভারে ছক্কা ও চার হাঁকিয়ে ম্যাচকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনেন তিনি।

তবে ৪৩তম ওভারে রিতু মনির চমকেই ফেরেন ট্রায়ন। শর্ট থার্ডম্যান থেকে সরাসরি থ্রো করে রান আউট করেন রিতু। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৬৯ বলে ৬২ রানে থামে তার ইনিংস। তখন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রয়োজন ২৪ বলে ৩২ রান।

আরও পড়ুন

শেষদিকে একাই লড়াই চালিয়ে যান নাদিন ডি ক্লার্ক। ফাহিমার ওভারে দুটি চার মেরে নেন ১১ রান, কমে আসে ব্যবধান। ৪৯তম ওভারে আবারও হতাশায় পড়েন রাবেয়া—লং অফে ডি ক্লার্কের ক্যাচ ছেড়ে দেন স্বর্ণা। ২৬ রানে জীবন পাওয়া ব্যাটার শেষ ওভারে ম্যাচ শেষ করে দেন। নাহিদার করা ওভারের প্রথম বলে চার ও তৃতীয় বলে ছক্কা মেরে জয় নিশ্চিত করেন তিনি। ২৯ বলে অপরাজিত ৩৭ রানে দক্ষিণ আফ্রিকাকে জেতান ডি ক্লার্ক।

এর আগে টস জিতে ব্যাট করতে নেমে শুরুটা ধীরগতির হলেও稳 ছিলেন বাংলাদেশের ওপেনাররা—রুবাইয়া হায়দার ঝিলিক ও অভিজ্ঞ ফারজানা হক পিঙ্কি। পাওয়ার প্লেতে আসে ২৮ রান। ১৭তম ওভারে ৫২ বলে ২৫ রান করে আউট হন ঝিলিক। কিছুক্ষণ পরই ৭৬ বলে ৩০ রান করে ফেরেন ফারজানা। ২৫ ওভারে স্কোরবোর্ডে তখন ৭৩/২।

এরপর নিগার সুলতানা জ্যোতি ও শারমিন আক্তার সুপ্তার জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় বাংলাদেশ। তৃতীয় উইকেটে দুজন যোগ করেন ৯১ বলে ৭৭ রান। জ্যোতি করেন ৪২ বলে ৩২ রান, আর সুপ্তা ফিফটি পূর্ণ করে ৭৭ বলে ৫০ রানে ফেরেন। শেষ দিকে ব্যাট হাতে ঝড় তোলেন স্বর্ণা আক্তার ও রিতু মনি। ৪৭তম ওভারে তিন বলে দুই উইকেট হারানোর পরও স্বর্ণার ঝোড়ো ব্যাটে আবারও গতি ফেরে ইনিংসে।

স্বর্ণা ৩৫ বলে ৫১ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাদেশের হয়ে দ্রুততম ফিফটির রেকর্ড গড়েন—মাত্র ৩৪ বলেই পঞ্চাশ স্পর্শ করেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৩ চার ও ৩ ছক্কা, যা এক ইনিংসে বাংলাদেশের ব্যাটারের সর্বাধিক ছক্কার রেকর্ডও। রিতু মনি খেলেন ৮ বলে অপরাজিত ১৯ রানের ক্যামিও। শেষ ১৮ বলে ৩৭ রানের জুটিতে বাংলাদেশ সংগ্রহ গড়ে ২৩২ রান।

দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে ননকুলুলেকো এমলাবা নেন ৪২ রানে ২ উইকেট।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad