ঢাকা-যশোর প্রভাতী ট্রেনের দাবিতে ১ মাসের আল্টিমেটাম

ঢাকা-যশোর প্রভাতী ট্রেনের দাবিতে ১ মাসের আল্টিমেটাম
ছবি: টাইমস
Advertisement
Advertisement

যশোর থেকে ঢাকায় প্রভাতী ট্রেন চালুসহ ছয় দফা দাবিতে এক মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন যশোরবাসী। এ সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে যশোর জংশনে অবরোধ করে রেল চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে বৃহত্তর যশোর রেল যোগাযোগ উন্নয়ন সংগ্রাম কমিটি।

মঙ্গলবার দুপুরে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে প্রতীকী রেল অবরোধ কর্মসূচি থেকে এ ঘোষণা দেওয়া হয়। নেতারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করেও দাবি পূরণ হয়নি। এবার দাবি আদায়ে কঠোর কর্মসূচি পালন করা হবে।

কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করেন সংগ্রাম কমিটির আহ্বায়ক ও জাতীয় হকি কোচ কাওসার আলী। বক্তব্য দেন প্রবীণ রাজনীতিক হাসিনুর রহমান, সিপিবি যশোরের সভাপতি মাহবুবুর রহমান মজনু, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, শিল্পকলা একাডেমির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহমুদ হাসান বুলু, রেল আন্দোলনের নেতা আমিনুর রহমান হিরু ও তসলিমুর রহমান, পূজা উদযাপন পরিষদ ও সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক নূর ইসলাম, বাম নেতা আহসান উল্লাহ ময়না, রেল আন্দোলনের নেতা সাঈদ আহমেদ নাসির শেফার্ড, কোটচাঁদপুরের আন্দোলনের নেতা মনিরুজ্জামান ও নজরুল ইসলাম প্রমুখ।

সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব প্রকৌশলী রুহুল আমিন বলেন, যশোরবাসী দীর্ঘদিন ধরে ভোরে যশোর থেকে ঢাকাগামী একটি প্রভাতী ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছে। এতে যাত্রীরা সকালে ঢাকায় পৌঁছে অফিসসহ প্রয়োজনীয় কাজ শেষ করে সন্ধ্যায় ফিরতি ট্রেনে বাড়ি ফিরতে পারবেন।

তিনি বলেন, বেনাপোল, যশোর, মোবারকগঞ্জ ও কোটচাঁদপুর থেকে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক যাত্রী ঢাকায় যাতায়াত করেন। এসব রুটে ট্রেনের সংখ্যা বাড়ালে বাংলাদেশ রেলওয়ে ও সরকার আর্থিকভাবে লাভবান হবে। রেল যোগাযোগ নিরাপদ, সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব। এর রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয়ও সড়কপথের তুলনায় কম।

আরও পড়ুন

সংগ্রাম কমিটির ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে, অবিলম্বে বেনাপোল-যশোর-ঢাকা ও দর্শনা-যশোর-ঢাকা রুটে প্রভাতী আন্তনগর ট্রেন চালু, সাধারণ ও নিম্ন আয়ের মানুষের সুবিধার্থে সব আন্তনগর ট্রেনে পর্যাপ্ত সাধারণ বগি যুক্ত করা এবং দর্শনা-খুলনা ও বেনাপোল-যশোর রুটে দ্রুত ডাবল রেললাইন স্থাপন। এ ছাড়া ট্রেনের সাধারণ ভাড়া বাসভাড়ার চেয়ে কম রাখা, নিবন্ধনের বাইরে টিকিটের ব্যবস্থা ও জ্যেষ্ঠ নাগরিকদের অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিকল্প টিকিট দেওয়ার সুযোগ রাখা এবং আন্তনগর ট্রেনে কৃষিপণ্য, ফুল, সবজি ও মাছ পরিবহনের বগি যুক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে।

রুহুল আমিন বলেন, ২০২৩ সাল থেকে এসব দাবিতে শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চলছে। এ সময়ে রেলমন্ত্রী, রেল সচিব, রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি), বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়েছে। রেল সচিব ও ডিজির সঙ্গে যৌথ মতবিনিময়ের পাশাপাশি একাধিকবার মানববন্ধন, বিক্ষোভ, দুই দফা রেল অবরোধ ও কালো পতাকা প্রদর্শন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। রেলওয়ের ডিজিকে অবরুদ্ধ করার কর্মসূচিও পালন করেছেন আন্দোলনকারীরা।

তিনি আরও বলেন, আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রেল সচিব ও ডিজি ২০২৬ সালের মার্চ-এপ্রিলের মধ্যে আরও একটি আন্তনগর ট্রেন চালুর আশ্বাস দিয়েছিলেন। কিন্তু অক্টোবর শেষ হতে চললেও প্রভাতী ট্রেন চালুর ঘোষণা আসেনি। অথচ ভারত থেকে ট্রেনের রেক এসেছে। আগামী এক মাসের মধ্যে ট্রেন চালুর ঘোষণা না এলে যশোর জংশন অবরোধ করে রেল চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হবে।

প্রতীকী অবরোধ শেষে জেলা প্রশাসক আশেক হাসানের মাধ্যমে রেলমন্ত্রী বরাবর স্মারকলিপি দেন সংগ্রাম কমিটির নেতারা। জেলা প্রশাসক স্মারকলিপি গ্রহণ করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad