প্রথমবারের মতো দেশের কোনো বিমানবন্দরে পাইপলাইনের মাধ্যমে জেট ফুয়েল বা এভিয়েশন ফুয়েল সরবরাহ শুরু হতে যাচ্ছে।
মঙ্গলবার পদ্মা অয়েল কোম্পানি চট্টগ্রামের পতেঙ্গা ডিপো থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে সরাসরি জেট ফুয়েল সরবরাহ করবে।
এ আয়োজনের উদ্বোধন করবেন জ্বালানি সচিব মো. সাইফুল ইসলাম।
আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের আগে গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার জেট ফুয়েল নতুন লাইন দিয়ে সফলভাবে সরবরাহ করা হয়েছে।
পদ্মা অয়েলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. মফিজুর রহমান বলেন, ‘এটি দেশের জ্বালানি খাতে একটি মাইলফলক। অন্য কোনো বিমানবন্দরে এ ধরনের সুবিধা নেই।’
কোম্পানিটির তথ্য অনুযায়ী, শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ থেকে ২ দশমিক ৫ লাখ লিটার জেট ফুয়েল প্রয়োজন হয়। হজ মৌসুমে এ চাহিদা বেড়ে প্রায় ৩ লাখ লিটার পর্যন্ত পৌঁছায়।
প্রকল্প পরিচালক ও পদ্মা অয়েলের সহকারী মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং) অনুপ কুমার বড়ুয়া জানিয়েছেন, নতুন পাইপলাইন চালু হলে বছরে অন্তত ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা সাশ্রয় হবে এবং সরবরাহের সময়ও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
বর্তমানে প্রতিদিন পতেঙ্গা ডিপো থেকে ১০ থেকে ১২টি ফুয়েল বোজারের মাধ্যমে জ্বালানি আনা হয়। পাইপলাইন পুরোপুরি চালু হলে মাত্র দুই ঘণ্টায় বিমানবন্দরের দৈনিক চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।
নতুন নির্মিত পাইপলাইনের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ৭৭ কিলোমিটার। এতে আধুনিক মনিটরিং সিস্টেম রয়েছে। ৮ ইঞ্চি ব্যাসের এই লাইনে ঘণ্টায় ১৪০ ঘনমিটার জেট ফুয়েল পরিবহন করা যাবে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ১৭০ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘জেট এ-ওয়ান পাইপলাইন ফ্রম এমআই টু শাহ আমানত ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্ট’ নামে এই প্রকল্পের কাজ শুরু হয় ২০২৩ সালের ১৯ ডিসেম্বর।
এর আগে, ১৬ আগস্ট চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় পাইপলাইনের মাধ্যমে জ্বালানি পরিবহন কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়। আগে চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় তেল পৌঁছাতে ৪৮ ঘণ্টা লাগত, এখন পাইপলাইনের মাধ্যমে সময় লাগছে মাত্র ১২ ঘণ্টা।
চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় নির্মিত ২৫০ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের বার্ষিক পরিবহন সক্ষমতা ৫০ লাখ টন।


