চট্টগ্রাম রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলে (সিইপিজেড) ভয়াবহ আগুনে ভস্মীভূত হওয়া বহুতল ভবনের কারখানায় ছিল না কার্যকর অগ্নি নিরাপত্তা সনদ বা বৈধ ফায়ার লাইসেন্স। বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের নিয়মও লঙ্ঘন করে ভবনটি নির্মিত হয়েছিল বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস কর্তৃপক্ষ।
শুক্রবার সকালে ঘটনাস্থলে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড মেইনটেন্যান্স) মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভবনটির ফায়ার লাইসেন্সের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোডের নিয়মও মানা হয়নি।’
তিনি আরও জানান, ভবনটির জন্য নিরাপত্তা সনদের আবেদন করা হয়েছিল, কিন্তু পরবর্তী ধাপের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।
তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘ভবনটি বহুমুখী কাজে ব্যবহৃত হতো। চারটি ফ্লোরে ছিল গুদাম, যেখানে ডাক্তারদের গাউন তৈরি করা হতো। দাহ্য পদার্থ থাকায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সমস্যা হয়।’
বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটার দিকে আটতলা ভবনের সাততলা থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তেই আগুন পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। রাতভর ২৫টি ফায়ার সার্ভিস ইউনিট ও নৌবাহিনীর চারটি দল আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। টানা প্রায় সাড়ে ১৭ ঘণ্টা পর শুক্রবার সকাল ৭টা ২৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

আগুন নেভার পরও সকাল থেকে ভবনের ভেতর থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা যায়। তাজুল ইসলাম বলেন, ‘ভবনটির কলাম ও কাঠামো মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে। এটি এখন অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। কেউ যেন ভেতরে প্রবেশ না করে, সে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
এ ঘটনায় সিইপিজেড কর্তৃপক্ষ ও ফায়ার সার্ভিস উভয়েই আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্তে আগুনের উৎস ও ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত ভবনটিতে দুটি প্রতিষ্ঠান কার্যক্রম চালাত–অ্যাডামস ক্যাপ অ্যান্ড টেক্সটাইল লিমিটেড ও জিহং মেডিকেল কোম্পানি। ভবনের সাততলা ছিল তাদের গুদামঘর, যেখানে টাওয়েল, ক্যাপ, সার্জিক্যাল গাউনসহ নানা চিকিৎসা সরঞ্জাম তৈরি হতো।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ভবনটির ফায়ার সেফটি প্ল্যান অনুমোদনের আবেদন করা হলেও পরিদর্শন সম্পন্ন হওয়ার আগেই আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। ফলে লাইসেন্স নবায়ন বা ঝুঁকি যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, ‘সিইপিজেডের সব ভবন দ্রুত কমপ্লায়েন্স মান অনুযায়ী রূপান্তর করতে হবে। অগ্নি নিরাপত্তা কার্যকারিতা সনদ ছাড়া উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালনা করা মানে পুরো শিল্পাঞ্চলকেই ঝুঁকিতে ফেলা।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের ঘটনা শুধু মালিকদের ক্ষতি নয়, দেশের শিল্প খাতের ভাবমূর্তির ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।’


