বিশ্বকাপের মতো বড় মঞ্চে আপসেট কিংবা অঘটনের জন্য নেদারল্যান্ড্সের আলাদা একটা সুখ্যাতিই আছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আলাদা দুটো আসরে ইংল্যান্ডের মতো দলকে হারিয়ে দেয়া থেকে শুরু করে সর্বশেষ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশকে টপকানো; সব মিলিয়ে ডাচরা বেশ লম্বা একটা পথ পাড়ি দিয়েছে। অবশ্য তাদের অঘটনের তালিকায় আরো কিছু ম্যাচ আছে, যেসব রীতিমতো ক্রিকেট রূপকথার অংশ হয়ে গেছে। ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দক্ষিণ আফ্রিকাকে চমকে দেয়া, ২০১৪ সালের আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ১৯০ রান তাড়ার জয়গাঁথাকেও দূরে সরিয়ে রাখার উপায় নেই।
ডাচদের এই অঘটনের দর্শনের নেপথ্যে কী আছে? বড় ম্যাচের আগে কীভাবে প্রস্তুতি সারে? তাদের দলে আছে দুনিয়ার ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে উঠে আসা অভিবাসী ক্রিকেটার। ভিন্ন কৃষ্টি, সংস্কৃতি, ধর্ম, বর্ণের ক্রিকেটাররা একসাথে কীভাবে ফাংশন করেন? তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলতে এসে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে টাইমস অফ বাংলাদেশ–এর জুবায়ের তানিনকে এসব প্রশ্নের উত্তরই দিয়েছেন ডাচ ওপেনার ম্যাক্স ও’ডাউড।
বড় মঞ্চে অঘটনের রহস্য উন্মোচন করে ম্যাক্স বলেন, ‘আসলে এসব অনেকটা নির্ভর করে প্রস্তুতির ওপর। কিছু দলকে হয়তো সবার চোখে “বড় দল” মনে হয়। তবে আমরা সবসময় প্রসেসে বিশ্বাসী, নিজেদের ওপরই সবসময় ফোকাসটা থাকে। কোন দলকে কীভাবে হারানো যায়, সেসব নিয়েও হোমওয়ার্ক থাকে। সব মিলিয়ে পারফরম্যান্সটা আসে। কখনো জিতি, কখনো হারি, এটাই অবশ্য স্বাভাবিক। প্রতিপক্ষ যে-ই হোক না কেন, প্রস্তুতিটা একই থাকে।’
আইসিসির সহযোগী সদস্য দেশ হওয়াতে ভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের সামনে পড়তে হয় ডাচদের। এর মধ্যে অন্যতম বড় দল হিসেবে পরিচিত পূর্ণ সদস্য দেশের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার সুযোগ না পাওয়া। ২০২২ সালের পর বাংলাদেশ সফরে এসে এবারই প্রথম কোনো দলের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলছে ডাচরা। সে নিয়ে বেশ আক্ষেপই করলেন ম্যাক্স।
৩১ বছর বয়সী ডানহাতি এই ওপেনার বলেন, ‘আমাদের মতো দলগুলো বড় দলের বিপক্ষে ম্যাচ খেলার অত সুযোগ পায় না। সব মিলিয়ে অনেক চ্যালেঞ্জিং আমাদের জন্য। বেশিরভাগ ম্যাচ খেলতে হয় অন্যান্য সহযোগী দেশের বিপক্ষেই। ২০২২ সালের পর এবার বাংলাদেশেই আমরা কোনো পূর্ণ সদস্য দলের বিপক্ষে সিরিজ খেলছি। উন্নতি করতে হলে বড় দলগুলোর বিপক্ষে আমাদের খেলতেই হবে। এই সিরিজটা আমাদের জন্য বেশ জরুরি ছিল, কারণ এখান থেকেই আসন্ন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতি সারব আমরা।’
সহজ নয়, অবশ্যই। সহযোগী দলগুলোর জন্য বড় দলগুলোর বিপক্ষে ম্যাচগুলো অনেক চ্যালেঞ্জিং। আমরা টেস্ট খেলুড়ে দলের মতো নিয়মিত ম্যাচ খেলতে পারি না। অবশ্যই আমরা অনেক ম্যাচ খেলি, তবে সেগুলোর বেশিরভাগই আমাদের সমমানের দলগুলোর সঙ্গেই হয়। আসলে এই সিরিজটাই (বাংলাদেশ) আমাদের প্রথম টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে অ্যাওয়ে ট্যুর। আমার মনে হয়, ২০২২ সালের পর এটাই প্রথম সিরিজ। তাই উন্নতি করতে হলে এবং সেরাদের সঙ্গে লড়াই করতে হলে এমন দলগুলোর সঙ্গে আমাদের নিয়মিত খেলতে হবে। নিজেদের যাচাই করার জন্য এই সিরিজ আমাদের জন্য দারুণ সুযোগ এবং আসন্ন টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য প্রস্তুত হওয়ার।
নেদারল্যান্ডস দলটাকে পাঁচমিশালি বললেও খুব একটা ভুল হবে না। এই একটা দলের ক্রিকেটারদের বেশিরভাগের শেকড়ই দক্ষিণ এশিয়ার ভারত-পাকিস্তান। নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশ থেকেও উঠে এসেছেন অনেক ক্রিকেটার। এই ভিন্নতাই ডাচদের মাঠের পারফরম্যান্সের অন্যতম শক্তি বলে মনে করে ম্যাক্স।
ভিন্নতার এই মেলা নিয়ে ম্যাক্স বেশ খুশি মনেই জবাব দিলেন, ‘আমাদের দলে ভিন্ন সংস্কৃতির মেলা। সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হচ্ছে, দুনিয়ার প্রায় সবখান থেকেই খেলোয়াড় আছে আমাদের। আমরা একেক জায়গা থেকে এলেও, আমাদের সবার লক্ষ্য এক; নেদারল্যান্ডসকে সেরাটা দেয়া।’