বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানার ছাদে পৌনে দুই হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে একটি গবেষণায় বলা হয়েছে। এই বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ১৮৮ মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রয়োজন পড়বে বলেও এতে উল্লেখ আছে।
বৃহস্পতিবার ঢাকায় পঞ্চম বাংলাদেশ-চায়না রিনিউয়েবল এনার্জি ফোরামে অর্থনীতির গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ-সিপিডির এক গবেষণায় এই তথ্য তুলে ধরা হয়।
‘ইন্ডাস্ট্রিয়াল রুফটপ সোলার ইন আরএমজি সেক্টর অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট পটেনশিয়ালস ফর চাইনিজ এফডিআই’ নামে এ গবেষণায় গার্মেন্টস কারখানার ছাদে সৌরবিদ্যুতের সম্ভাবনা এবং চীনা বিনিয়োগের সুযোগ বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
গবেষণা অনুযায়ী, দেশের প্রায় ৩ হাজার ৩২০টি গার্মেন্টস কারখানার ছাদে প্রায় ৯ থেকে ৯ দশমিক ৭ মিলিয়ন বর্গমিটার জায়গা সৌরপ্যানেল স্থাপনের জন্য ব্যবহারযোগ্য। এতে প্রায় ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৭৬৮ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনের সক্ষমতা তৈরি হতে পারে।
বড় কারখানার বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ৪০ শতাংশ, মাঝারি কারখানার ৩৩ শতাংশ এবং ছোট কারখানার ৩৮ শতাংশ রুফটপ সোলার থেকে পূরণ করা সম্ভব বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।
গবেষকরা বলেন, প্রায় ৫০০ কারখানা এখনই বিনিয়োগের উপযোগী, আরও প্রায় ১ হাজার ৩০০ কারখানা প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তা পেলে রুফটপ সোলারে যেতে পারে।
তবে ঋণের সুদহার ১০ থেকে ১২ শতাংশ হলে রুফটপ সোলার প্রকল্পের বিনিয়োগযোগ্যতা প্রায় নষ্ট হয়ে যায় বলেও সতর্ক করেছে সিপিডি।
তারা বলছে, গ্রিন ফাইন্যান্স বা কম সুদের ঋণ পাওয়া গেলে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কারখানা বিনিয়োগের উপযোগী হয়ে ওঠে।
গবেষণায় আরও বলা হয়, রুফটপ সোলারে যাওয়ার ক্ষেত্রে কারখানার ছাদের কাঠামো, অর্থায়ন, নথিপত্র, আমদানি ও কাস্টমস প্রক্রিয়া, বৈদেশিক মুদ্রার ঝুঁকি এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়হীনতা বড় বাধা। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে প্রকল্পের অর্থায়ন-সংক্রান্ত অসামঞ্জস্যের কারণে অনেক প্রকল্প মাঝপথে বাদ পড়ে।
আলোচনায় হা-মীম গ্রুপের হেড অব পাওয়ার, এনার্জি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল সাসটেইনেবিলিটি তনুল চক্রবর্তী বলেন, তাদের ২৯ দশমিক ২ মেগাওয়াট রুফটপ সোলার ইতোমধ্যে চালু রয়েছে। কিন্তু তা গ্রুপটির মোট বিদ্যুৎ চাহিদার ১৫ শতাংশ এবং মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬ শতাংশ পূরণ করছে।
শুধু কারখানার ছাদ নয়, মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট ও ব্যাটারি স্টোরেজের মতো ব্যবস্থাও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলেও মত দেন তিনি।
ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর এনার্জি রিসার্চের পরিচালক শাহরিয়ার আহমেদ চৌধুরী নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরঞ্জামে আমদানি শুল্ক পুরোপুরি তুলে দেওয়ার প্রস্তাব দেন।
তিনি বলেন, ‘তিন বছরের জন্য আমদানি শুল্ক শূন্য করা হলে এ খাতে দ্রুত বিনিয়োগ বাড়তে পারে।’
তার হিসাবে, ১০০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ বছরে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার গ্যাস এবং প্রায় ৩০০ কোটি টাকার ফার্নেস অয়েল সাশ্রয় করতে পারে।
সৌরবিদ্যুৎ ও ব্যাটারি স্টোরেজ এক সঙ্গে ব্যবহার করলে উচ্চ ব্যয়ের ফার্নেস অয়েলভিত্তিক বিদ্যুতের বিকল্প তৈরি হতে পারে বলেও মত দেন শাহরিয়ার। রুফটপের পাশাপাশি মার্চেন্ট পাওয়ারের মাধ্যমে গার্মেন্টস ও টেক্সটাইল কারখানাগুলোকে আরও বেশি নবায়নযোগ্য বিদ্যুতের আওতায় আনার সুযোগ রয়েছে বলে মত দেন তিনি।
সেমিনারে চীনা বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফেরানো এবং বিনিয়োগের প্রশাসনিক, কারিগরি, আর্থিক ও আইনি বাধা কমানোর ওপরও জোর দেওয়া হয়। আলোচনার শেষ পর্যায়ে ২০৩৬ সাল পর্যন্ত একটি বিশেষ ‘উইন্ডো’ তৈরি করে নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রকল্পগুলো দ্রুত অনুমোদন ও বাস্তবায়নে সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়।


