‘মান্নাতের’ দাম এখন ২০০ কোটি

টাইমস রিপোর্ট
3 Min Read
মান্নাতের বারান্দায় শাহরুখ খান। ছবি: সংগৃহীত

প্রায় ১৩ কোটি রুপিতে ‘মান্নাত’ ২০০১ সালে কিনেছিলেন শাহরুখ। বাড়িটির বর্তমান বাজার মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০০ কোটিতে।

বাড়িটি প্রসঙ্গে এ অভিনেতা বলেন, ‘আমার বাবা-মা মারা যাওয়ার পর আমার কোনো বাড়ি ছিল না। আমি মনে মনে সবসময় একটি বাড়ির প্রত্যাশা করেছিলাম। যেটি আমার পরিবারের জন্য একটি মনের মতো জায়গা হবে। আমার যখন বাচ্চা হয়েছিল তখন আমি এই বাড়িটি পেয়েছিলাম এবং একদিন, আমার নাতি-নাতনিরা এখানে পুরোনো পার্সি পরিবারের মতো বাস করবে।’

লস অ্যাঞ্জেলস থেকে লন্ডন, দুবাই বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে শাহরুখের নিজস্ব বাড়ি রয়েছে। তবে শাহরুখ কখনই বাড়িটি বিক্রি করবেন না বলে জানিয়েছেন। রিয়েল এস্টেট এজন্টদের মতে এখন বাড়িটি বিক্রি করলে ২০০ কোটি রুপিরও বেশি দাম পাওয়া যাবে।

২৭ হাজার স্কয়ার মিটার জায়গাজুড়ে অবস্থিত ‘মান্নাত’। এর ভেতরে রয়েছে জিম, সুইমিংপুল, বিশাল বাগান, একাধিক কামরা, জিমখানা, শাহরুখের অফিস, লাইব্রেরি, এমনকি আস্ত সিনেমা হল। আরব সাগরের তীরে অবস্থিত মুম্বাইয়ের সবচেয়ে সুন্দর প্রাসাদ বলে মনে করা হয় ‘মান্নাত’কে। শাহরুখের ট্রফি আর অ্যাওয়ার্ড রাখার জন্যই মান্নাতে রয়েছে একটা আলাদা কামরা। ৪২ জন আরাম করে বসে সিনেমা দেখবে-এত বড় হোম থিয়েটার আর কোথায় পাবেন মান্নাত ছাড়া? সেই থিয়েটারের দেওয়াল সাজানো ক্লাসিক হিন্দি সিনেমার পোস্টার, দেখলে হৃদয় শান্ত ও শীতল হয়ে যায়।

শাহরুখ খানের মুম্বাইয়ের বাংলো মান্নাতের আসল নাম ছিল ‘ভিলা ভিয়েনা’। তিনি ২০০১ সালে বাই খোরশেদ ভানু সানজানা ট্রাস্টের কাছ থেকে সম্পত্তিটি কিনেছিলেন এবং প্রাথমিকভাবে এর নামকরণ করেছিলেন ‘জান্নাত’। এটি তার সৌভাগ্য বয়ে আনার পরে, ২০০৫ সালে তিনি নাম পরিবর্তন করে ‘মান্নাত’ (যার অর্থ প্রার্থনা) রাখেন।

১৯১৪ সালে নির্মিত মন্ন নরিম্যান ডুবাসের মালিকানাধীন ছিল এবং এটি গ্রেড-৩ হেরিটেজ সম্পত্তি হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছে, যার অর্থ মূল বাংলোটি পরিবর্তন করা যায় না। তবে শাহরুখ খান মূল কাঠামোর পেছনে একটি ছয়তলা সংযুক্তি যুক্ত করে এস্টেট সম্প্রসারণ করেছেন, যা মান্নাত অ্যানেক্স নামে পরিচিত। ঐতিহ্য এবং আধুনিকতার এই মিশ্রণ মান্নাতকে মুম্বাইয়ের অন্যতম আইকনিক সেলিব্রিটি হোমে পরিণত করেছে।

বাড়িটি ১৯ শতকের শেষের দিকে মান্ডির রাজা নির্মাণ করেছিলেন বলে মনে করা হয়। অন্য একটি প্রচলিত গল্প থেকে জানা যায়, বাংলোটি ১৯১৭ সালে মানেকজি বোতলওয়ালা নামে এক পার্সি ভদ্রলোক নির্মাণ বা অধিগ্রহণ করেছিলেন। আশি ও নব্বইয়ের দশকে হিন্দি চলচ্চিত্রের শুটিংয়ের জন্য বাংলোটি ব্যবহার করা হত। ‘মি. ইন্ডিয়া’ ও ‘তেজাব’র মতো বিখ্যাত চলচ্চিত্র এখানে চিত্রিত হয়েছে। এর আগে শাহরুখ খান নিজেই ‘ইয়েস বস’ সিনেমার শুটিং মান্নাতে করেছেন।

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *