বড় দলের বিপক্ষে দ্বিপাক্ষিক সিরিজ বা ম্যাচ হলে বাংলাদেশের দর্শক-সমর্থকদের প্রত্যাশা একরকম। কিন্তু বিপরীত চিত্র দেখা যায় র্যাংকিংয়ের নিচের সারির কোনো দলের বিপক্ষে ম্যাচ থাকলে। প্রত্যাশার পারদ ছাড়িয়ে যায় সবকিছু। এর সাথে আরো একটা ঝুঁকি থাকে, ‘ম্যাচ হারা যাবে না।’
৩০ আগস্ট থেকে সিলেটে শুরু হতে যাওয়া নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ নিয়েও তেমন কথাবার্তাই হচ্ছে। বাংলাদেশ দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসা অধিনায়ক লিটন দাস কিংবা কোচ ফিল সিমন্সকেও শুনতে হয়েছে ‘যদি হেরে যান, তাহলে কী হবে?’ ধরনের প্রশ্ন। কারণ প্রতিপক্ষ র্যাংকিংয়ে, শক্তি-সম্ভাবনায় পিছিয়ে থাকা ডাচ দল।
গত বৃহস্পতিবার সংবাদ সম্মেলনে এসে অধিনায়ক লিটন বলে গেছেন, ‘যদি হেরেও যাই, হেরে যেতেই পারি। দুইটা দলই খেলতে এসেছে, একটা টিম জিতবে, একটা টিম হারবে। বাট আমরা কতটা ক্রিকেট ভালো খেলতে পারতেছি, এটা হচ্ছে বিষয়।’
সিরিজ শুরুর আগের দিন শুক্রবার বিকেলে সংবাদ সম্মেলনে এসেছিলেন কোচ ফিল সিমন্স। তাকেও উত্তর দিতে হয়েছে একই প্রশ্নের। বারবার তার মুখ থেকে শুনতে চাওয়া হয়েছে, ডাচদের বিপক্ষে এই সিরিজে তাদের হারানোর কিছু আছে কিনা। বাস্তবতার পথ দেখিয়ে এই ক্যারিবিয়ান কোচ বললেন, হারার ঝুঁকি আর সমালোচনা একে অন্যের সমান্তরাল। তবে লিটনের মতো ডিফেন্সিভ স্টাইলে ব্যাট না করে সিমন্স খেললেন একটু সামনের পায়ে এগিয়ে। বলেছেন, কারো বিপক্ষেই হারার চিন্তা তারা করেন না।
সংবাদ সম্মেলনে বেশ সময় নিয়ে দেয়া উত্তরে সিমন্স বলেন, ‘হারার ঝুঁকি তো থাকেই। সাথে সমালোচনাও থাকে। আমরা অস্ট্রেলিয়ার সাথে হারলেও সমালোচনা হবে, যদি নিচের সারির কোনো দলের সাথে হারি, তাহলে সেটাকেও খারাপ বলার উপায় নেই। কারণ ভালো না খেলে হারলে সমালোচনা হওয়াটা যৌক্তিকই। কারো সাথে যদি আমরা ভালো খেলেও হারি তাহলে বুঝতে হবে তারাই জয়ী হওয়ার যোগ্য ছিল। কারো বিপক্ষেই হারার কথা চিন্তা করি না আমরা। কীভাবে আরো ভালো খেলা যায়, কীভাবে স্ট্যান্ডার্ডটা আরো ওপরে তোলা যায়, সেটাই ভাবনায় থাকে।’
২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মূলপর্বের টিকেট নিশ্চিত করে ফেলা ডাচদেরও বেশ সিরিয়াসলি নিচ্ছে বাংলাদেশ। তাদের মান বোঝাতে সিমন্স হাঁটলেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের মানদন্ডের উদাহরণের পথে। সিমন্সের ভাষ্য, ‘আমরা এখানে তিনটা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলব। এবং যখন আপনি বলবেন আন্তর্জাতিক ম্যাচ, সেটা নিশ্চয়ই আন্তুর্জাতিক ক্রিকেট খেলা দলের বিপক্ষেই হবে। নেদারল্যান্ডস দুটা বিশ্বকাপ খেলেছে। যখনই বিশ্বকাপে গেছে ভালো করেছে। তো আমার মনে হয় না তারা ছোট দল। এখনকার ক্রিকেটে কাউকেই ছোট করে দেখার উপায় নেই। সবারই জেতার সুযোগ আছে। সবাই ভালো ক্রিকেট খেলে এখন।’
এই সিরিজটা মূলত এশিয়া কাপের প্রস্তুতি হিসেবেই খেলছে বাংলাদেশ। তবে নজর এখন ডাচ সিরিজেই। কোচ সিমন্স চাচ্ছেন প্রাথমিক বাধা টপকানোর পর ফাইনাল নিয়ে ভাবতে। ডাচ সিরিজ প্রিলিমিনারি রাউন্ড আর ফাইনাল এখানে এশিয়া কাপ। খুব বেশি কিছু নিয়ে আপাতত আর ভাবতে চায় না বাংলাদেশ।
‘ফাইনালের আগে প্রিলিমিনারি রাউন্ডটা তো আগে পার হতে হবে। এশিয়া কাপ নিয়ে ভাবছি না। এই সিরিজের পর এশিয়া কাপ। আন্তর্জাতিক একটা দলের বিপক্ষে একটা আন্তর্জাতিক সিরিজ আমাদের। আপাতত এখানেই আমাদের ফোকাস’, বলেন সিমন্স।
তবে শ্রীলংকার পর ঘরের মাঠে পাকিস্তানের বিপক্ষে জেতা সিরিজের পর স্ট্যান্ডার্ডটা আরো উঁচুতে নিয়ে যেতে চান সিমন্স, ‘শ্রীলংকায় যে সাফল্য নিয়ে এসেছিলাম, সেটা ধরে রাখতে চাই আমরা। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছি, তবে উইকেটটা শ্রীলংকার মতো ভালো ছিল না। শ্রীলংকায় নিজেদের স্ট্যান্ডার্ড আমরা অনেক উঁচুতে নিয়ে গেছি। এখানেও সেই চেষ্টাই করব।’