পাবনার চাটমোহরে অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ শাপলা খাতুনকে (৩০) শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে মৃতের শাশুড়ি ও সৎ ছেলেকে আটক করেছে পুলিশ। পুলিশ বলছে, পারিবারিক কলহের জেরে হত্যাকাণ্ডটি ঘটানো হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শাপলার গলায় আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। শ্বাসরোধ করে হত্যার পর শাপলা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা গেছেন বলে প্রচার চালানো হয়।
শুক্রবার সকালে চাটমোহর উপজেলার আটলঙ্কা বউবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। শাপলা ওই গ্রামের সৌদি প্রবাসী মনজিল হোসেনের স্ত্রী। তিনি নয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন।
অভিযুক্তরা হলেন- মৃতের শাশুড়ি মনোয়ারা খাতুন (৬৫) ও সৎ ছেলে শিপন হোসেন (২০)।
স্থানীয়রা জানান, প্রায় তিন বছর আগে কুয়াবাসী গ্রামের সাইদুল ইসলামের মেয়ে শাপলাকে বিয়ে করেন মনজিল। শাপলা ছিল তার চতুর্থ স্ত্রী।
অপরদিকে, বিয়ের পর তাকে মেনে নিতে পারেননি প্রথম স্ত্রীর ছেলে শিপন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে পারিবারিক কলহ দেখা দেয়৷ তিন মাস আগে শাপলাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন শিপন ও তার দাদি মনোয়ারা খাতুন। এরপর স্থানীয়রা মিলে শাপলাকে তার স্বামীর ঘরে ফিরে আনেন। তখন মেরে ফেলার হুমকি দেন শিপন।
শুক্রবার সকালে শাপলা মরদেহ বাড়িতে দেখতে পান এলাকাবাসী। এ সময় শিপন ও মনোয়ারা খাতুন বাড়িতে উপস্থিত ছিলেন। একপর্যায়ে তারা পালানোর চেষ্টা করলে স্থানীয়রা তাদের আটক করে পুলিশে খবর দেয়। পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার এবং অভিযুক্তদের আটক করে।
শাপলার বড় মা নাজমা খাতুন বলেন, ‘আর মাত্র আট-দশ দিন পর মেয়ের ডেলিভারি হওয়ার কথা ছিল। তার আগেই ওরা মেয়েটাকে এভাবে শেষ করে দিল। আমরা ওদের কঠিন শাস্তি চাই।’
চাটমোহর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনজুরুল আলম বলেন, ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। শনিবার সকালে মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।