জুলাই ডায়েরি: সংঘর্ষ-সংঘাতে ২১০ জনের মৃত্যু

টাইমস রিপোর্ট
3 Min Read
দেশজুড়ে কারফিউ জারি ও সেনা টহল জোরদার। ছবি: তথ্য মন্ত্রণালয়

২৮ জুলাই পর্যন্ত হাসপাতাল, স্বজন ও মরদেহ নিয়ে আসা ব্যক্তিদের সূত্রে সংঘর্ষ-সংঘাতে ২১০ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়। এর মধ্যে বয়স, পেশা ও আঘাতের ধরন এবং কোন এলাকায় আহত অথবা নিহত হয়েছিলেন, তার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায় ১৫০ জনের। এর মধ্যে ছিল ১১৩ জন শিশু, কিশোর ও তরুণ।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের বেশির ভাগের শরীরে প্রাণঘাতী গুলির ক্ষতচিহ্ন ছিল। ছররা গুলি বা প্যালেট, রাবার বুলেটের ক্ষতচিহ্ন এবং অন্যান্য আঘাত কম। মৃত্যুর কারণ ও গুলির ধরন নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্ত দরকার। অনেক ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত হয়, তবে প্রতিবেদন প্রকাশ করো হয়না। অনেক ক্ষেত্রে ময়নাতদন্ত ছাড়া লাশ স্বজনেরা নিয়ে যায়।

ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় সংঘর্ষ শুরু হয় ১৫ জুলাই। ওই দিন কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। ১৬, ১৮, ১৯, ২০ ও ২১ জুলাই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে (১৭ জুলাই কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি)। এরপর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অনেকের মৃত্যু হয়।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান ২৮ জুলাই রোববার সচিবালয়ে এক ব্রিফিংয়ে বলেন, সাম্প্রতিক সহিংসতায় এখন পর্যন্ত ১৪৭ জনের মৃত্যুর সংবাদ তাদের হিসাবে রয়েছে। তারা অনুসন্ধান চালিয়ে যাচ্ছেন। এরপর যদি মৃত্যুর প্রকৃত তথ্য পাওয়া যায়, তাহলে সংখ্যাটি বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে যারা ছাত্র, তাদের মধ্যে ছাত্রলীগের ছেলেও রয়েছেন। বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার, বিভিন্ন বয়সের মানুষ রয়েছেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিচয়ের মানুষও রয়েছেন। এসব বিষয় পরে বিস্তারিতভাবে জানানো যাবে।

সংঘর্ষ চলাকালে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আহত ও নিহত ব্যক্তিদের হাসপাতালে এনেছিলেন বিক্ষোভকারী ও সাধারণ মানুষেরা। কিছু ক্ষেত্রে পুলিশও তাদের হাসপাতালে নিয়ে আসে। তারা অনেক ক্ষেত্রেই আহত ও নিহতের পরিচয়, বয়স ও পেশা সম্পর্কে জানতেন না।

বিশ্লেষণে দেখা যায়, নিহতদের মধ্যে ১৯ জন শিশু ও কিশোর। এর মধ্যে চার বছর বয়সী শিশুও রয়েছে। ১৮ থেকে ২৯ বছরের মধ্যে ৯৪ জন। ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী ২১ জন। ৪০ বা এর বেশি বয়স ১৬ জনের।

মৃত্যু বেশি হয় ঢাকায়। ১৫০ জনের মধ্যে ৮৮ জনই ঢাকায় নিহত হন। এরপর রয়েছে নরসিংদী (১৫), নারায়ণগঞ্জ (১৪), সাভার (৮), গাজীপুরসহ (৫) অন্যান্য জেলা।

যে ১৫০ জনের মৃত্যু বিশ্লেষণ করা হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন শিক্ষার্থী, যা ৩০ শতাংশ। নিহতদের মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় ও স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা রয়েছেন।

পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিহত শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের আবু সাঈদ (২২), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদয় চন্দ্র তরুয়া (২২), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আহসান হাবীব তামিম (২৩), শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের রুদ্র সেন (২২), মিরপুরের মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শাইখ আশহাবুল ইয়ামিন (২২), বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের (বিইউপি) মীর মাহফুজুর রহমান (মুগ্ধ-২৬), নর্দান বিশ্ববিদ্যালয়ের আসিফ হাসান (২১), ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (আইইউটি) জাহিদুজ্জামান তানভীন (২৩), সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির ইমতিয়াজ আহমেদ (জাবির-২৩), ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির ইরফান ভূঁইয়া (২১), মানারাত ইউনিভার্সিটির পারভেজ শাকিল (২২) প্রমুখ।

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *