কুষ্টিয়ায় জিলা স্কুলের মাঠে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

কুষ্টিয়ায় জিলা স্কুলের মাঠে ১১ দলীয় জোটের কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

আগামী ৩১ অক্টোবর কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠে ১১ দলীয় জোটের সমাবেশ হবে কি না, তা নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ওই মাঠে সমাবেশের প্রচার চললেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একই দিনে শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার তথ্য সামনে এসেছে।

এ নিয়ে শহরে আলোচনা ও সমালোচনা চলছে। জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের ঘোষণার প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

আগামী ৩১ অক্টোবর খুলনা, যশোর ও কুষ্টিয়া অভিমুখে লংমার্চ শেষে কুষ্টিয়া জিলা স্কুল চত্বরে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। তবে সমাবেশের স্থান নিয়ে দুই ধরনের তথ্য সামনে আসায় সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের চিঠি সূত্রে জানা গেছে, ৩১ অক্টোবর সমাবেশের জন্য শহীদ আবরার ফাহাদ স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি চেয়ে গত ১৩ অক্টোবর জেলা জামায়াতে ইসলামীর প্যাডে আবেদন করেন সংগঠনটির জেলা সেক্রেটারি এনামুল হক।

ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২৬ অক্টোবর কুষ্টিয়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার জাকিউল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আটটি শর্তে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়।

অন্যদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশ হবে বলে প্রচার করা হচ্ছে। এ নিয়ে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যেও আলোচনা চলছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ রাজনৈতিক সমাবেশে ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে সোমবার দুপুরে বিক্ষোভ করেন বিদ্যালয়টির বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থীরা।

আরও পড়ুন

স্থানীয় বাসিন্দা বাদশা আলমগীর হোসেন বলেন, জিলা স্কুল একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এখানে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ও খেলাধুলার পরিবেশ বজায় রাখা জরুরি। রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক পরিবেশ যেন বিঘ্নিত না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নেওয়া উচিত। সমাবেশের স্থান নিয়ে যে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে, সেটিও দ্রুত পরিষ্কার করা দরকার।

জিলা স্কুলের ছাত্র রাকিব হাসান বলেন, সমাবেশ কোথায় হবে, তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। একদিকে জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশের প্রচার চলছে, অন্যদিকে স্টেডিয়াম ব্যবহারের অনুমতির কথা জানা যাচ্ছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি স্পষ্ট করা প্রয়োজন, যাতে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্তিতে না পড়েন।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ড্যানিয়েল বলেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান রাজনীতির প্রভাবমুক্ত থেকে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখুক, এটি আমাদের চাওয়া। এখানে রাজনৈতিক সমাবেশ হলে স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই ১১ দলীয় জোটের প্রতি সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে অন্য কোনো স্থানে সমাবেশ করার আহ্বান জানান তিনি।

এ বিষয়ে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হকের মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে সাড়া পাওয়া যায়নি।

তবে জেলা জামায়াতের আমির এ কে এম খন্দকার আলী মহসিন দাবি করেছেন, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের মাঠে সমাবেশ করার জন্য বিভাগীয় কমিশনারের অনুমতি পাওয়া গেছে। তিনি বলেন, ‘পূজার ছুটির কারণে অফিস বন্ধ ছিল। বিভাগীয় কমিশনার অনুমতি দিয়েছেন।’

এদিকে, কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. আমিরুল ইসলাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন না করাই উত্তম।

মাঠ ব্যবহারের বিষয়ে তিনি আরও জানান, আগামী ৩১ অক্টোবরের সমাবেশের জন্য জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত আবেদন জমা পড়েনি। ফলে সমাবেশের স্থান ও অনুমতি নিয়ে ভিন্ন তথ্য সামনে আসায় কর্মসূচি ঘিরে অনিশ্চয়তা কাটেনি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad