বাংলাদেশ দলের সংবাদ সম্মেলন শেষ করে ততক্ষণে চলে গেছেন কোচ ফিল সিমন্স। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের মিডিয়া সেন্টারের নিচতলায় সংবাদকর্মীদের অপেক্ষা তখন নেদারল্যান্ডস দলের প্রধান কোচ রায়ান কুকের জন্য। যার সাথে বাংলাদেশের বেশ পুরনো একটা সম্পর্ক আছে। ২০১৮ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত সাবেক এই দক্ষিণ আফ্রিকান ক্রিকেটার ছিলেন বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচের দায়িত্বে।
চার বছর পর নিজের পুরনো কর্মস্থলে ফিরলেন নতুন ভূমিকায়। অ্যাসাইনমেন্ট; বাংলাদেশের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ। অবশ্য প্রথমবার মিডিয়ার সামনে আসার আগে তাকে নিয়ে বেশ নাটকীয় এক পরিস্থিতিই তৈরি হয়েছিল মিডিয়া সেন্টারে। পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে শুরু হওয়ার কথা ছিল সংবাদ সম্মেলন। কিন্তু বাংলাদেশ দল মিনিট দশেক আগে কাজ সেরে ফেলায় এগিয়ে আসে ডাচদের মিডিয়া সেশনের সময়ও। নতুন সময় নির্ধারিত হয় ৫টা ২০ মিনিট।
কিন্তু এই সংবাদ সম্মেলন শুরু হয়েছে আরো ৩৬ মিনিট দেরিতে। কারণ কুককে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। একবার ড্রেসিংরুম, একবার মাঠ তো একবার মিডিয়া সেন্টার; তার খোঁজে এভাবেই ঘুরপাক খাচ্ছিলেন মিডিয়া ম্যানেজার কোরে রুটগার্স। কখনো ডায়াসের কাছে দাঁড়িয়ে ফোন করছিলেন দলের কাউকে, কখনো বা আবার ড্রেসিংরুমের সামনে গিয়ে অপেক্ষা করে একে-ওকে জিজ্ঞেস করছিলেন, কোচকে কোথাও দেখেছেন কিনা। এই আসা-যাওয়ার মধ্যেই বারবার এসে দুঃখপ্রকাশ করে গেছেন কোরে। কারণ তখন সাংবাদিকদের মনেও প্রশ্ন, ‘রায়ান কুক গেল কই?’
ঘড়ির কাঁটা ছয়টা ছোঁয়ার ঠিক মিনিট চারেক আগে কুকের দেখা পেলেন সবাই। বিশেষত ম্যানেজার কোরে। কুককে সাথে করে নিয়ে মিডিয়া সেন্টারে ঢোকার পর তার চেহারায় দেখা মিলল ‘যাক! শেষ পর্যন্ত কোচকে খুঁজে পেলাম’ স্বস্তির। চেয়ার টেনে বসতে বসতে কুক নিজেই জানালেন দেরির কারণ। বিশেষ এক প্রয়োজনে ম্যাচ রেফারি তাকে ডেকেছিলেন কথা বলতে, যেটা তিনি জানিয়ে যাননি ম্যানেজার কোরেকে। যে কারণেই এত অপেক্ষা, উৎকন্ঠা। আস্ত, জলজ্যান্ত একটা মানুষ তো আর হারিয়ে যেতে পারে না!
সংবাদ সম্মেলনে দেরিতে এলেও কুকের চেহারায় ছিল হাসি, সেটা আরো চওড়া হয়েছে নিজের সাবেক কর্মস্থলে ফেরার আনন্দে। বিসিবির চাকরি ছাড়ার পর ২০২২ সাল থেকে ডাচদের জাতীয় দলের দায়িত্বে থাকা কুক বলেন, ‘ফিরে এসে তো দারুণ লাগছে। এখানে কত স্মৃতি। অনেকেই তো আছে, যাদের সাথে এতদিন দেখা হয়নি। বেশ ভালো লাগছে।’
‘ফিরে এসে পুরনো কত চেনা মুখ দেখতে পাচ্ছি। কেবল যে ক্রিকেটারদের কথা বলছি তেমনটাও না। অনেক পরিচিত কোচ, ক্রিকেট প্রশাসকের সাথেও দেখা হলো। এই মাঠে ফিরে এসেও ভালো লাগছে। ডাচদের বেশ ভালো স্মৃতি আছে এখানে’, স্মৃতিচারণটা এভাবেই করলেন কুক।
নস্টালজিয়া আর স্মৃতিচারণ পর্ব শেষে মাঠের লড়াই নিয়েও কথা বলেছেন কুক। সাবেক শিষ্যদের তাদের মাঠে হারানো কঠিন, সেটা ভালোই জানা আছে তার। তবে নিজের দলকেও কোনোভাবে কোথাও পিছিয়ে রাখেননি তিনি। কুক বলেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে যে কেউ জিততে পারে, যেকোনো দিনে। বাংলাদেশ সম্প্রতি বেশ ভালো ক্রিকেট খেলেছে। তবে কিছু সিরিজে তাদের দুর্বলতাও চোখে পড়েছে। তবে আমাদের ওই আত্মবিশ্বাস আছে, আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারব। সব মিলিয়ে ভালো একটা সিরিজ হবে আশা করি। তবে এটাও মনে করিয়ে দিই, ম্যাচ জেতার চিন্তা না থাকলে আমরা এখানে থাকতাম না।’
৩০ আগস্ট প্রথম টি-টোয়েন্টি দিয়ে শুরু হচ্ছে সিরিজ। বাকি দুই ম্যাচ ১ ও ৩ সেপ্টেম্বর।