ফোরজিতে ন্যূনতম গতি ১০ এমবিপিএস নির্ধারণ

টাইমস রিপোর্ট
2 Min Read
ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ সেবার মান উন্নয়নে বড় পদক্ষেপ নিয়েছে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)। সম্প্রতি অনুমোদিত নতুন কোয়ালিটি অফ সার্ভিস (কিউওএস) নীতিমালায় মোবাইল অপারেটর ও ইন্টারনেট সেবাদাতাদের জন্য নির্দিষ্ট মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আওতায় ফোরজি ইন্টারনেট সেবায় ন্যূনতম ডাউনলোড গতি ১০ এমবিপিএস নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি-বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এক বিবৃতিতে জানান, নতুন নীতিমালায় কঠোর তদারকি ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। সেপ্টেম্বর থেকে বিটিআরসি মাসিকভাবে নেটওয়ার্কের পারফরম্যান্স পর্যালোচনা করবে এবং সেবাদাতাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করবে।

নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন পারফরম্যান্স সূচক নির্ধারণ করা হয়েছে। এরই মধ্যে, কল সেটআপ সাকসেস রেট ন্যূনতম ৯৯ শতাংশ, কল ড্রপ হার ২ শতাংশের মধ্যে এবং ভয়েস-ওভার-এলটিই (ভোল্টি) সেবায় ব্যবহারকারীর মান সূচক ন্যূনতম ৩ দশমিক ৫ থাকতে হবে। ফোরজিতে আপলোড গতি হবে কমপক্ষে ২ এমবিপিএস।

অপারেটরদের প্রতি মাসে তিনটি প্রধান সূচক অ্যাক্সেসিবিলিটি (নেটওয়ার্কে সংযোগের সফলতা), রিটেইনেবিলিটি (সেবার স্থায়িত্ব) এবং নেটওয়ার্ক ইন্টিগ্রিটি (নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা) রিপোর্ট জমা দিতে হবে। বিটিআরসি প্রতি মাসে দুর্বল পারফরম্যান্স করা ৫০টি সেল শনাক্ত করে তালিকা প্রকাশ করবে।

এ ছাড়া গ্রাহক অভিযোগের সমাধানে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। নেটওয়ার্কবহির্ভূত অভিযোগ ২৮ দিনের মধ্যে সমাধান এবং কল সেন্টারে ৯০ শতাংশ কল ৪০ সেকেন্ডের মধ্যে রিসিভ করার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

ফিক্সড ইন্টারনেট ও টেলিফোন সেবার মানও নতুন নীতিমালার আওতায় এসেছে। ইন্টারনেটের ক্ষেত্রে গ্রাহকদের সাবস্ক্রাইব করা গতির অন্তত ৯৫ শতাংশ গ্যারান্টি দিতে হবে।

এনটিটিএন অপারেটরদের জন্যও ডেটা হারানো, ল্যাটেন্সি ও জিটার-এর নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। ডেটা হারানো  দশমিক শূন্য ১ শতাংশের নিচে, ল্যাটেন্সি ৫ এমএসের নিচে এবং সংযোগের জিটার ৩ এমএসের মধ্যে রাখতে হবে। ফাইবার নেটওয়ার্কে সেবার সমস্যা মেট্রো এলাকায় ৪ ঘণ্টা এবং গ্রামীণ এলাকায় ৬ ঘণ্টার মধ্যে সমাধান করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উদ্যোগ শহর ও গ্রামে টেলিযোগাযোগ সেবার গুণগত মান নিশ্চিত করবে এবং অপারেটরদের আরও দায়িত্বশীল করে তুলবে। বিটিআরসির এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ একটি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে সহায়তা করবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

Share This Article
Leave a comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *