প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বিএনপি, জামায়াত এবং এনসিপির নেতারা রোববার বিকাল থেকে বৈঠকে বসছেন। বৈঠকটি তিনটি পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে বলে জানা গেছে। শনিবার বিকালে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে সংবাদ সম্মেলনে এই বৈঠক সম্পর্কে জানান তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
হঠাৎ কেনো এ বৈঠকের আমন্ত্রণ, জানতে চাইলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘বর্তমান উদ্ভূত পরিস্থিতি, রাজনৈতিক অবস্থা ও নির্বাচন পরিস্থিতি নিয়ে আলাপ-আলোচনা হতে পারে।’
রাজনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, গণঅধিকার পরিষদ নেতা নুরুল হক নুরের ওপর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হামলা, জাতীয় পার্টির (জাপা) কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ, জাপাকে নিষিদ্ধ করার দাবি, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে অনুষ্ঠেয় জাতীয় নির্বাচনের প্রস্তুতি— এসব বিষয় উঠে আসতে পারে আলোচনায়। এ বৈঠক থেকে আসতে পারে নতুন রাজনৈতিক দিক-নির্দেশনা।
জামায়াতে ইসলামী জানিয়েছে, বিকাল সাড়ে ৪টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে অনুষ্ঠেয় বৈঠকে দলের নায়েবে আমীর সৈয়দ আব্দুল্লাহ মো. তাহের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধি যোগ দেবেন। এ দলের অন্য সদস্যরা হলেন– সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার, সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান ও হামিদুর রহমান আযাদ।
জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৬ টায় প্রধান উপদেষ্টার বৈঠকে নেতৃত্ব দেবেন দলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ। প্রতিনিধি দলের অন্য সদস্যরা হলেন সিনিয়র যুগ্ম আহবায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব, সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা এবং সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ।
বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, সন্ধ্যা ৭টায় প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে দলের চার সদস্যের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলে থাকছেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সালাহউদ্দিন আহমদ।
গত ২২ জুলাইও প্রধান উপদেষ্টা বিএনপি, জামায়াত, এনসিপি ও ইসলামী আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এ বৈঠকে তিনি দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান মুহাম্মদ ইউনূস।
এরপর প্রধান উপদেষ্টা আরও ২৫টি দল ও জোটের সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং একাধিক বার দলের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্য এবং নির্বাচনকালীন শান্তি প্রতিষ্ঠার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন।
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর সরকার গঠনের পর ১১ আগস্ট প্রথমবারের মতো অন্তর্বর্তী সরকার প্রধান মুহাম্মদ ইউনূস রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বৈঠক করেন। এরপর বিভিন্ন রাজনৈতিক ইস্যুতে তিনি একাধিকবার দলগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।