জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে ৫ বছর সাজা দেওয়া বিচারপতি আখতারুজ্জামান পদত্যাগ করেছেন। রোববার তিনি পদত্যাগপত্র জমা দেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, ‘দুর্নীতি ও ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার দোসর’ অভিযোগে হাইকোর্টের বিচারপতি মো. আক্তারুজ্জামানসহ ১২ বিচারককে ছুটিতে পাঠানো হয়েছিল। পরে ওই ১২ বিচারপতির বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১ জুলাই সশরীরে হাজির হয়ে অনিয়মের অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে বিচারপতি আখতারুজ্জামানকে তলব করে সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিল। তিনি সে ব্যাখ্যা দিয়েই প্রধান বিচারপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন। ইতোমধ্যে প্রধান বিচারপতি রাষ্ট্রপতির কাছে আখতারুজ্জামানের পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছেন।
ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৫ এর বিচারক মো. আখতারুজ্জামান ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে খালেদা জিয়ার ছেলে ও বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ পাঁচ জনকে ১০ বছর করে কারাদণ্ড দেয় আদালত।
২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের শাসনামলে খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বিরুদ্ধে মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন। ২০০৯ সালে ওই মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দেওয়া হয়।
এরপর ২০০৯ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত মামলার কার্যক্রম উচ্চ আদলতের নির্দেশে স্থগিত ছিল।
মামলার নথি অনুযায়ী, বেগম জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্টে এতিমদের জন্য সহায়তা হিসেবে আসা ২ কোটি ১০ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ওই টাকা দিয়েছিলেন কুয়েতের তৎকালীন আমির।
অনুদানের ওই অর্থ সৌদি আরবের ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাধ্যম ওই টাকা ১৯৯১ সালে বাংলাদেশে সোনালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
তবে অভিযোগ ওঠে, খালেদা জিয়া এতিমদের জন্য আসা অর্থ দুই ভাগ করে তার ছেলেদের এতিমখানার ‘সেটেলার ট্রাস্টি’ বানিয়ে আত্মসাৎ করেছেন।