জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে নির্বাচন কমিশনের রোডম্যাপকে স্বাগত জানিয়েছে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি। তবে নির্বাচনী রোডম্যাপে ‘জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না থাকায়’ হতাশা প্রকাশ করেছে দলটি।
শুক্রবার সকাল ১১টায় দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনী রোডম্যাপের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানান এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ।
তিনি বলেন, ‘গণতন্ত্র উত্তরণের জন্য ঘোষিত রোডম্যাপকে আমরা স্বাগত জানাই। আমরা প্রথম থেকেই মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আস্থাশীল ছিলাম।’
‘তবে রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে মতবিনিময় না করেই নির্বাচন কমিশন এই রোডম্যাপ ঘোষণা করেছে। সব দলের সঙ্গে আলোচনা করা হলে রোডম্যাপটি আরও ভালো হতে পারতো’, মনে করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
তিনি বলেন, ‘রোডম্যাপে সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণ, ভোটার তালিকা চূড়ান্তকরণ, রাজনৈতিক দল নিবন্ধন ও দেশীয় পর্যবেক্ষক সংস্থার নিবন্ধনসহ ২৪টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হলেও ভোটার সচেতনতা এবং নির্বাচনী ব্যয় প্রসঙ্গ অনেকটাই আড়াল হয়েছে।’
ভোটার সচেতনতা বৃদ্ধিতে প্রটোকল তৈরি, রাষ্ট্র বা নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে নির্বাচনী প্রচারণার ব্যয়ের কিছু অংশ বহন করার বিষয়টি রোডম্যাপে দেখা যায়নি উল্লেখ করে দলটির সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘কালো টাকার ছড়াছড়ি রোধে কমিশনের সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ অনুপস্থিত।’
এছাড়া, জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে তরুণদের আকাঙ্ক্ষা বিবেচনায় নিয়ে ভোটার বয়স ১৭ বছর করার প্রস্তাবও রোডম্যাপে জায়গা পায়নি বলে অভিযোগ করেন ব্যারিস্টার ফুয়াদ।
সংবাদ সম্মেলনে ব্যারিস্টার ফুয়াদ আরও অভিযোগ করেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখনও সনাতনি নির্বাচনী পদ্ধতি বজায় রেখেছে।’
বুথভিত্তিক ভোটের পরিবর্তে খোলা মাঠে ভোট আয়োজন করলে সবার কাছে নির্বাচন আরও গ্রহণযোগ্য হবে বলে জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও প্রশাসনের ওপর সরকার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিতে না পারায় জনগণের মধ্যে এখনও সংশয় রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘গত ২৪ বছরে দেশে কোনো গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হয়নি। নির্বাচন করার মতো ভালো কমকর্তাও আমাদের নাই।’