বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী এ বৈঠকে আগামী জাতীয় নির্বাচনসহ সমসাময়িক রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে জামায়াতে ইসলামী জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করারও দাবি জানিয়েছে।
জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ব্যাপারে সুস্পষ্ট করে বলেছি, ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে যেভাবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তেমনিভাবে জাতীয় পার্টিকেও নিষিদ্ধ করা যেতে পারে।’
রোববার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন নিয়ে জনগণের মনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সরকারের নিরপেক্ষতা ক্ষুণ্ন হওয়ায় নির্বাচনী প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে।’
তাহের জানান, প্রধান উপদেষ্টা তিনটি বিষয়ে জাতিকে আশ্বস্ত করেছিলেন—সংস্কার কার্যক্রম, বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বিশ্বমানের একটি আনন্দঘন নির্বাচন আয়োজন করা। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে এসব অর্জন প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে তারা বৈঠকে জানিয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টাকে বলেছি আবার নির্বাচনে অনিয়ম হবে, এরপর রাতে দুঃখ প্রকাশ করবেন—এসব হবে না। এই সরকার দখলদারদের বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। যে সরকার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, সেই সরকার কীভাবে নির্বাচন করবে আমরা তা নিয়ে শঙ্কিত।’
তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘পরিস্থিতির উন্নতি হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব। এর ব্যত্যয় ঘটলে দেশ নৈরাজ্যের দিকে চলে যাবে। কোনো নীলনকশা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হবে না। সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে।’
তাহের আরও জানান, ৩১টি রাজনৈতিক দলের মধ্যে ২৫টি দল আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতিতে নির্বাচন চায়।’ কেন্দ্র দখল ঠেকাতে নতুন এই পদ্ধতি জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘আমরা নির্বাচন চাই ফেব্রুয়ারিতে। তবে তার আগে এসব প্রশ্নের সমাধান করতে হবে। সকলের অংশগ্রহণ ও সম্মতির মাধ্যমেই নির্ধারিত সময়ে সুষ্ঠু, অবাধ ও উৎসবমুখর নির্বাচন সম্ভব।’
জুলাই সনদ প্রসঙ্গে তাহের বলেন, ‘১৯টি বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল ঐকমত্যে পৌঁছেছে। কিন্তু অল্পসংখ্যক দল বলছে, এগুলো আগামী নির্বাচিত সরকার এলেই বাস্তবায়ন হবে। আমরা মনে করি, বর্তমান সরকারের দায়িত্বেই আইনি ভিত্তি দিয়ে এসব বাস্তবায়ন করা জরুরি।’
নুরুল হক নুরের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তাহের বলেন, ‘দ্বিতীয় স্বাধীনতার যে নায়ক, তার ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা দিয়ে কাজ হবে না। হামলাকারীদের কঠোর শাস্তি দিতে হবে।’