সরকারের কাছে জাতীয় পার্টির (জাপা) সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করার দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির চার সদস্যের প্রতিনিধিদল রোববার সন্ধ্যায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক করে এ দাবি তোলেন।
বৈঠক শেষে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাষ্ট্রীয়ভাবে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। একইভাবে জাতীয় পার্টি প্রকাশ্যে একটি নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। অতীতে তারা অবৈধ সংসদকে বৈধতা দেওয়ার চেষ্টা চালিয়েছে। এসব কারণে তাদের কার্যক্রমও স্থগিত করা উচিত।’
আরিফুল ইসলাম যোগ করেন, ‘গত তিনটি নির্বাচন অবৈধভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জাতীয় পার্টি সরাসরি ওই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় তারা আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থীর মতো প্রচারণা চালিয়েছে। এ থেকেই বোঝা যায়, জাতীয় পার্টি ও আওয়ামী লীগের মধ্যে পার্থক্য নেই।’
তিনি উল্লেখ করেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের এক বছর পরও শহীদ ও আহতদের পুনর্বাসন, চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সম্প্রতি শহীদ পরিবারের সদস্যরা তাদের দাবিতে মাঠে নামলে পুলিশ লাঠিচার্জ করেছে এবং কয়েকজন আহত হয়েছে। এ বিষয়ে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
প্রবাসীদের প্রসঙ্গে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করেছিলেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতে বেশ কয়েকজন সহযোদ্ধা আটক হন। এখনো ২৫ জন আইনি জটিলতায় আছেন। তাদের মুক্তির জন্য সরকারকে উদ্যোগ নিতে হবে।’
‘গুম কমিশনের প্রতিবেদনে রাষ্ট্রীয় সংস্থার কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে। সরকারের উচিত এ বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। দেশের নির্বাচনী ইতিহাসে রাষ্ট্রীয় সংস্থা প্রভাব বিস্তার করেছে এবং ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগেও বিভিন্ন দলকে প্রভাবিত করার চেষ্টা করা হয়েছে,’ উল্লেখ করেন তিনি।
আগামী নির্বাচন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন গণপরিষদ নির্বাচনের মাধ্যমে অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। এতে দীর্ঘমেয়াদি রাজনৈতিক সংকটের স্থায়ী সমাধান সম্ভব হবে। পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনের সক্ষমতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতেও প্রধান উপদেষ্টার ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ।’
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এনসিপি নেতারা। আরিফুল ইসলাম যোগ করেন, ‘একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ছাত্র সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের যে উদ্যোগ সরকার নিয়েছে, সেটি যেন সুষ্ঠুভাবে হয় এবং কোনো ধরনের বাধার সম্মুখীন না হয়, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।’
তিনি আরও জানান, এনসিপির পক্ষ থেকে দাবি জানানো হয়েছে নারীর আসনে নারী প্রার্থীর ভোট নিশ্চিত করা এবং ১০০ আসনে সরাসরি ভোটের সুযোগ রাখার। এ ছাড়া ৩১ অক্টোবরের পরে ১৮ বছর পূর্ণ করা তরুণদেরও ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
পুরোনো এস্টাবলিশমেন্টের কিছু সদস্য এখনো নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে আরিফুল ইসলাম বলেন, ‘সম্প্রতি গণঅভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া এক রাজনৈতিক দলের প্রধানকে প্রকাশ্যে আঘাত করা হয়েছে। এ ঘটনাও তার প্রমাণ। এসব বিষয়ে সরকারের নজর দেওয়া জরুরি।’