চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) আবারও শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। রোববার সকাল থেকে দু’পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া চলতে থাকে। প্রত্যক্ষদর্শীরা বলছেন, স্থানীয়দের হামলায় বিশ্ববিদ্যালয় উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. কামাল উদ্দীন, প্রক্টর তানভীর হায়দার আরিফসহ অন্তত ৮০ জন আহত হয়েছেন। আহতদেরকে চবির মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আশপাশের এলাকায় সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়েছে এবং নতুন করে কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসন চবি ও এর আশেপাশের এলাকায় সোমবার রাত ১২টা পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করেছে। স্থগিত করা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব পরীক্ষা।
এর আগে, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এক প্রান্তে কয়েকশ’ শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়েছিলেন, বিপরীত দিকে ছিলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দুই পক্ষই স্লোগান দিতে থাকেন। এই সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের সহ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, মো. কামাল উদ্দিন, প্রক্টর তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফসহ শিক্ষকরা দুই পক্ষকে শান্ত করার চেষ্টা করেন। তবে এক পর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়।
ইটের আঘাতে আহত ১০ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের দিকে নিয়ে যেতে দেখা যায়, তাদের মাথা থেকে রক্ত ঝরছিল। তবে, ঘটনাস্থলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্য উপস্থিত ছিল না।
এর আগে চবির এক নারী শিক্ষার্থীকে বাসার দারোয়ান মারধরের ঘটনায় শনিবার দুই নম্বর গেট এলাকায় সংঘর্ষ শুরু হয়। সময়ের সাথে সাথে সংঘর্ষ তীব্র আকার ধারণ করে এবং আহত শিক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। রাতভর সংঘর্ষে অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হন। গুরুতর আহত ১৫ শিক্ষার্থীকে চট্টগ্রাম মেডিকেলে পাঠানো হয়। এই ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির দুই শিক্ষকও আহত হন।
শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রোববারের সব পরীক্ষা বাতিল করে।
চবি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. কামাল উদ্দিন বলেন, চবি শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের সাথে সংঘর্ষের ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষার্থী আহত হয়েছে এদের মধ্যে অনেকেই পরীক্ষার্থীও ছিলেন। সবার কথা বিবেচনায় রেখেই আজকের পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।