‘কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি’ পূরণ না হওয়ায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) উপাচার্যসহ দুই শতাধিক শিক্ষককে অবরুদ্ধ করেছেন দুটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা।
রোববার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে একাডেমিক কাউন্সিলের সভা শেষে অবরোধ শুরু করেন আন্দোলনকারীরা। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত শিক্ষকরা মিলনায়তনের ভেতরে অবরুদ্ধ ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, সভায় পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ‘কম্বাইন্ড ডিগ্রি’ চালুর সিদ্ধান্ত হয়। পাশাপাশি পৃথকভাবে ভেটেরিনারি ও পশুপালন ডিগ্রিও বহাল রাখার প্রস্তাব গৃহীত হয়। তবে তিন ডিগ্রি রাখার সিদ্ধান্ত মেনে নিতে নারাজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। তারা মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান সরকার জানান, ‘সর্বসম্মতিক্রমে কম্বাইন্ড ডিগ্রির দাবি মেনে নেওয়া হয়েছে। ডিন কাউন্সিলের আহ্বায়ককে প্রধান করে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা কোর্স কারিকুলাম প্রণয়ন করবে। আগামী সেশন থেকে কম্বাইন্ড কোর্সে ১৫০ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।’
তবে এ সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট নন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। পশুপালন অনুষদের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিনা আক্তার বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল কম্বাইন্ড ডিগ্রি। শিক্ষকবৃন্দের এই সিদ্ধান্ত আমাদের দাবি পূরণ করে না।’
দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মিরা বলেন, ‘টানা ৩৬ দিন ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে আন্দোলন করছি। চাকরির ক্ষেত্রে কম্বাইন্ড ডিগ্রির প্রাধান্য বেশি। তিনটি ডিগ্রি রাখলে সমস্যা আরও বাড়বে। আমাদের দাবি এক পেশায় একটাই ডিগ্রি।’
২৫ জুলাই থেকে এই দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন শিক্ষার্থীরা।