ভারতে আটক নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১৫ বাংলাদেশিকে সাতক্ষীরা সীমান্ত দিয়ে হস্তান্তর করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। পরে পুলিশ শুক্রবার সকালে তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামিনুল হক জানান, ওই বাংলাদেশিদের নাম-পরিচয় যাচাই-বাছাই শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এর আগে, বৃহস্পতিবার রাতে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার তলুইগাছা সীমান্তের জিরো পয়েন্টে পতাকা বৈঠকের মাধ্যমে হস্তান্তর করা হয় তাদের।
সংশ্লিষ্ট থানায় দায়ের করা সাধারণ ডায়েরিতে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) জানায়, বুধবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে ভারতের হাকিমপুর চেকপোস্ট এলাকা পার করার সময় ওই ১৫ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।
পরদিন বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ১০মিনিটে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরোপয়েন্টে বিএসএফের আমুদিয়া কোম্পানি কমান্ডার ইন্সপেক্টর দিবাজ্যোতি ডলি ও বিজিবি-৩৩ ব্যাটালিয়নের আওতাধীন তলুইগাছা বিওপি কমান্ডার নায়েব সুবেদার মো. আবুল কাশেমের নেতৃত্বে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ তাদের বিজিবির কাছে হস্তান্তর করেছে। ওই রাতেই বিজিবির টহলদল আটককৃতদের সাতক্ষীরা সদর থানায় হস্তান্তর করেছে।
হস্তান্তরকৃতরা হলেন- সাতক্ষীরার শ্যামনগরের পশ্চিম কৈখালী গ্রামের আব্দুর রব সরদারের ছেলে মো. সেকেন্দার হোসেন (৩৩), শ্যামনগরের নকিপুর গ্রামের কালাচাঁদ গাজীর ছেলে মো. আব্দুল্লা গাজী (৩৮), শ্যামনগরের যোগেন্দ্রনগর গ্রামের মো. সুজাত আলী গাজীর মেয়ে ঝর্ণা খাতুন (৩৮), পিরোজপুর জেলার খানাকুনিয়ারী গ্রামের এছাহাক মোল্লার ছেলে রুহুল আমিন (৪০), রুহুল আমিনের স্ত্রী শেফালী বেগম (৩৫), মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (৭), শ্যামনগরের কালিঞ্চি গোলাখালী এলাকার মিকাইল মোল্লার স্ত্রী নাজমা বিবি (৩৩), মেয়ে মাহেরা আক্তার (৬), ছেলে নাজমুল হাসান নাইম (১৬), মেয়ে মিনা (১৩), খুলনার বাটিয়াঘাটা কৃষ্ণনগর, জলমা এলাকর মৃত জিয়ারুল ইসলামের স্ত্রী মর্জিনা বেগম (৪৪), মেয়ে হাসিনা খাতুন (১০), শ্যামনগর নওয়াবেঁকীর পূর্ব বিড়ালক্ষী গ্রামের আবিয়ার রহমান শেখের মেয়ে মাফুজা খাতুন (৩৪), মেয়ে তানিয়া সুলতানা (১০) ও ছেলে মাফুজ রহমান (২)।
এ বিষয়ে তলুইগাছা বর্ডার অবজারভেশন পোস্ট (বিওপি) কমান্ডার নায়েব সুবেদার আবুল কাশেম সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।