ঢাকা-দিল্লি সমস্যার সমাধানে ত্রিবেদীর আশা

ঢাকা-দিল্লি সমস্যার সমাধানে ত্রিবেদীর আশা
ছবি: সংগৃহীত
Advertisement
Advertisement

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে জনগণের নেতা হিসেবে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদী বলেছেন, দুই দেশের শীর্ষ নেতার বৈঠক হলে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধান সম্ভব। খবর ইউএনবি’র।

তিনি সাংবাদিকদের বলেন, “আমি তারেক রহমানের বক্তব্য অনেকবার শুনেছি। তিনি জনগণের নেতা, আমাদের প্রধানমন্ত্রীও তাই। আমার বিশ্বাস, দুই নেতা মুখোমুখি বসলে অনেক জটিল সমস্যার সমাধান হয়ে যায়।” বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে দেখে তিনি আশা প্রকাশ করেন, এতে নেতিবাচক কিছু নেই এবং নিশ্চয়ই সমাধান আসবে।

রোববার ভারতীয় ভিসা আবেদন কেন্দ্রে শিশুদের খেলার জায়গা উদ্বোধনের পর হাইকমিশনার এসব কথা বলেন। তিনি জানান, ভারতীয় ভিসার বেশ চাহিদা রয়েছে এবং ধীরে ধীরে তাদের ভিসা দেওয়ার সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

এর আগে গত ৪ আগস্ট ভারত জানায়, আঞ্চলিক জোট বিমসটেক-এর বর্তমান সভাপতি হিসেবে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লিতে ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। এছাড়া চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে আলাদাভাবে ভারতে দ্বিপাক্ষিক সফরের একটি নিমন্ত্রণও কার্যকর রয়েছে।

আগামী ১২-১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে বিশ্ব অর্থনীতি, বাণিজ্য ও টেকসই উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা হবে। ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানান, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে দায়িত্ব নেওয়ার পরই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে আসার আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। এবার বিমসটেক প্রধান হিসেবে তাকে আলাদাভাবে সম্মেলনটির একটি সেশনে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন

বিমসটেক বঙ্গোপসাগরীয় অঞ্চলের সাতটি দেশ—বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান, মিয়ানমার, নেপাল, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ড নিয়ে গঠিত। গত বছর থেকে বাংলাদেশ দুই বছরের জন্য এই জোটের নেতৃত্বে রয়েছে।

আমন্ত্রণের বিষয়ে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর জানিয়েছেন, বিষয়টিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে দ্রুত সবাইকে জানানো হবে।

এদিকে গত সপ্তাহে নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভার্চুয়াল বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। শেখ হাসিনার  এই বক্তব্য বাংলাদেশে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি করেছে। ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী কার্যক্রমের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা।

তবে ভারত সরকার স্পষ্ট করেছে, ওই সংবাদ সম্মেলনে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। একটি বেসরকারি গণমাধ্যমের আয়োজনে শেখ হাসিনা বক্তব্য দিয়েছেন এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকার সম্পর্কে দেওয়া কোনো মন্তব্যকে ভারত সমর্থন করে না। জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়টি মাথায় রেখে প্রতিবেশীদের পরিস্থিতির দিকে ভারত নজর রাখছে বলেও জানায় দিল্লি।

অন্যদিকে, ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জানায়, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনাকে নয়াদিল্লিতে বসে গণমাধ্যমের সামনে বাংলাদেশ ও তার জনগণের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার সুযোগ দেওয়ায় বাংলাদেশ অসন্তোষ প্রকাশ করছে।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর