কার্বন নিঃসরণে রেকর্ড গড়তে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ

কার্বন নিঃসরণে রেকর্ড গড়তে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপ
২০২৫ সালের ২০ নভেম্বর সুইজারল্যান্ডের জুরিখের ‘হোম অব ফিফা’তে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ইউরোপীয় প্লে-অব ড্র শেষে প্রদর্শনের জন্য রাখা ফিফা বিশ্বকাপ ট্রফি। ছবি: এএফপি/বাসস
Advertisement
Advertisement

উত্তর আমেরিকাজুড়ে দল এবং সমর্থকদের ব্যাপক যাতায়াতের কারণে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে দূষণকারী টুর্নামেন্টে পরিণত হতে পারে। নতুন একটি প্রতিবেদনে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে যে, এবারের আসরে কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ সাম্প্রতিক অন্যান্য আসরগুলোর তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ হতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা এবং মেক্সিকোর ১৬টি শহর জুড়ে এই টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যেখানে ম্যাচগুলো ছড়িয়ে রয়েছে চারটি ভিন্ন সময় অঞ্চলে। এ ছাড়া, ফিফা এবারের প্রতিযোগিতায় দলের সংখ্যা ৩২ থেকে বাড়িয়ে ৪৮টি করেছে। ফলে ম্যাচের সংখ্যা যেমন বেড়েছে, তেমনি দল ও সমর্থকদের ভ্রমণের চাহিদাও অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।

‘সায়েন্টিস্টস ফর গ্লোবাল রেসপন্সিবিলিটি’-এর (এসজিআর) একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই টুর্নামেন্ট থেকে অন্তত ৯০ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ গ্যাস নিঃসৃত হবে। এই সংখ্যাটি ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত গত চারটি বিশ্বকাপের গড় কার্বন নিঃসরণের (৪৭ লাখ টন) চেয়ে ৯২ শতাংশ বেশি।

প্রতিবেদনে বিমান ভ্রমণকে কার্বন নিঃসরণের প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, শুধু বিমান চলাচলের কারণেই ৭৭ লাখ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ নিঃসরণ ঘটবে, যা ২০১০ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপগুলোর বিমান পরিবহনজনিত নিঃসরণের চেয়ে চার গুণেরও বেশি।

প্রতিযোগিতার বর্তমান কাঠামোই এই বৃদ্ধির মূল কারণ। ফিফা পুরো টুর্নামেন্টটিকে একটি সম্পূর্ণ মহাদেশ জুড়ে ছড়িয়ে দিয়েছে এবং অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যাও বাড়িয়েছে। এর ফলে ফুটবলপ্রেমীদের এখন এক ভেন্যু থেকে অন্য ভেন্যুতে যাওয়ার জন্য হাজার হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন

ফিফা আশা করছে, এবারের টুর্নামেন্টে ৫০ লাখের বেশি সমর্থক মাঠে উপস্থিত থাকবেন। আয়োজক শহরগুলোর মধ্যে সমর্থকদের এই বিশাল আনাগোনা ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বৃহত্তম যাতায়াত যজ্ঞের সৃষ্টি করবে।

প্রতিবেদনে উদাহরণ হিসেবে ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কথা তুলে ধরা হয়েছে। লন্ডন থেকে রওনা হয়ে কোনো সমর্থক যদি ফাইনাল পর্যন্ত ইংল্যান্ড দলকে অনুসরণ করেন, তবে তাকে প্রায় ২৪ হাজার কিলোমিটার পথ পাড়ি দিতে হতে পারে। এই দীর্ঘ ভ্রমণের ফলে প্রতিজন মানুষের বিপরীতে প্রায় ৩.৪ টন কার্বন ডাই-অক্সাইডের সমপরিমাণ গ্যাস নিঃসৃত হবে।

এমনকি শুধু গ্রুপ পর্বের খেলাগুলোর জন্যই বড় অঙ্কের যাতায়াত করতে হচ্ছে। ব্রিটেন থেকে আসা-যাওয়ার ফ্লাইট বাদেও ইংল্যান্ডের সমর্থকদের কেবল আয়োজক শহরগুলোর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাওয়ার জন্যই অতিরিক্ত ২ হাজার ৮৩০ কিলোমিটার পথ ভ্রমণ করতে হতে পারে।

তিনটি দেশ এবং ডজন খানেক ভেন্যুতে ফুটবলকে পৌঁছে দিচ্ছে এবারের আসর। তবে প্রতিবেদনটিতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে, এই বিশাল আয়োজনের পেছনে এখন এমন একটি পরিবেশগত মূল্য চোকাতে হচ্ছে, যার মুখোমুখি পূর্ববর্তী কোনো বিশ্বকাপকে হতে হয়নি।

Follow TIMES on Google News

Get trusted updates and editor-picked stories in your feed.

Follow
সম্পর্কিত খবর
Ad