প্রয়াত রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা এরশাদকে গেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি একটি প্রতারণা মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে রাজধানীর গুলশান এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে টাইমস অব বাংলাদেশকে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের গুলশান বিভাগের উপকমিশনার এম তানভীর আহমেদ।
তিনি জানান, বিদিশার বিরুদ্ধে একটি প্রতারণার মামলায় দুই বছরের সাজা আছে।
গত ২০ মে ঢাকার একটি আদালত এই সাজা ঘোষণা করে। পাশাপাশি তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়।
মোশাররফ হোসেন নামে মিরপুর-১০ এলাকায় স্যানিটারি পণ্যের আমদানিকারক বিদিশার বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।
মামলায় বলা হয়, ২০০১ সালে বারিধারার একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য তিনি বিদিশার সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে বারিধারা এলাকার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ৮০ লাখ টাকায় চুক্তি হয়।
প্রেসিডেন্ট পার্ক এরশাদের বাসভবন ছিল। ২০০২ সালের ২৭ মার্চ বিদিশার সঙ্গে তার বিয়ের বিষয়টি প্রকাশ পায়। তবে তার আগে থেকেই তাদের মধ্যে সম্পর্কের গুঞ্জন ছিল।
মামলায় মোশাররফ লিখেন, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা তাকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন। সেখানে এরশাদপত্নী তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। মোশাররফ স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কারওয়ান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার কথা ছিল।
ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, এরপর বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি। টাকা ফেরত বা ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি করলে সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকিও দেওয়া হয়।
মামলায় দাবি করা হয়, মোশাররফকে বিদিশা জানিয়েছিলেন, এরশাদের কাছ থেকে টাকা আদায় না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।
এরশাদের সঙ্গে বিদিশার ছাড়াছাড়ি হয় ২০০৫ সালের জুন মাসে। ছাড়াছাড়ির পরে তিনি তার নিজের বাসায় ফিরে যান।


