বৃষ্টি হোক বা রোদ, সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রতিদিন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফুলের মালা বিক্রি করে ১৫ বছরের আসমা। শারীরিক গড়ন ছোট ও রোগা হওয়ায় নিজের বয়সের চেয়েও অনেক কম বয়সী মনে হয় তাকে।
গত জুনের এক ভ্যাপসা দুপুরে আসমা বলেছিল, প্রায়ই তার মাথা ঘোরে, শরীর ভীষণ দুর্বল লাগে, হাত-পায়ে ব্যথা হয় এবং মাঝেমধ্যে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলে। টাকা থাকলে তিন বছর আগে সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসকের দেওয়া পুরোনো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনে সে।
ঢাকার গেন্ডারিয়ায় রাস্তার পাশের একটি ওয়ার্কশপে ধাতু কাটার মেশিনে হাত পিষ্ট হওয়ার কয়েক মাস পরও ১৩ বছরের আহমেদ তার ডান হাত পুরোপুরি নাড়াতে পারে না। এখন রাস্তায় ঘুরে ঘুরে ফল ও সবজি বিক্রি করে সে।
মিরপুর-২ এলাকায় পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহের পাশাপাশি সড়কের মোড়ে ফুল বিক্রি করে ১৬ বছরের খালেদা। জ্বর, পেটব্যথা ও শরীরব্যথা নিয়েও প্রায়ই কাজ করে সে। মাসিকের সময়ও নানা সমস্যায় পড়তে হয় তাকে। সবচেয়ে বড় উদ্বেগ নিরাপত্তা নিয়ে। খালেদা বলে, ‘রাতে কী হতে পারে, আমি কখনোই জানি না।’
রাস্তায় বসবাস ও কাজ করা লাখো শিশুর বাস্তবতাকে তুলে ধরে এসব শিশুর গল্প। দারিদ্র্য, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও সীমিত স্বাস্থ্যসেবার কারণে তাদের অনেকের অসুস্থতার চিকিৎসা হয় না।
ইউনিসেফের ২০২৪ সালের এক গবেষণায় বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ৩৪ লাখ শিশু মা-বাবার যত্ন ছাড়া রাস্তায় বসবাস করে। এসব শিশু আঘাত ও বিভিন্ন রোগসহ নানা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে থাকে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২২ সালের পথশিশু জরিপে দেখা যায়, আগের তিন মাসে ৫৩ শতাংশ শিশু অসুস্থ হয়েছিল। তাদের মধ্যে কাশি ছিল ৪১ শতাংশের, মাথাব্যথা ২৩ শতাংশের, পানিবাহিত রোগ ১৯ শতাংশের এবং জ্বর ছিল ১৭ শতাংশের।

রাস্তায় থাকা শিশুদের সহায়তায় সরকার ও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও) নানা কর্মসূচি চালাচ্ছে। তবে জরিপে অংশ নেওয়া শিশুদের মাত্র এক-পঞ্চমাংশ এসব কর্মসূচির কথা জানত। যারা জানত, তাদেরও এক-চতুর্থাংশের বেশি জানিয়েছে, তারা কখনো এসব সহায়তা পায়নি।
এসব শিশুর কেউ বস্তিতে রাত কাটায়, কেউ আবার রাস্তাতেই ঘুমায়। রাস্তায় থাকা বা কাজ করাই তাদের জীবন ও পরিচয়ের অংশ হয়ে উঠেছে।
বেশিরভাগ শিশু ফুল বিক্রি, ভিক্ষা, পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ, মাল বহন, ফেরি করে পণ্য বিক্রি এবং নানা ধরনের খুচরা কাজ করে নিজেদের বা পরিবারের খরচ চালায়।
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত এই প্রতিবেদক ঢাকার ছয়টি এলাকায় বারবার গিয়ে রাস্তায় বসবাস বা কাজ করা শিশুদের সঙ্গে কথা বলেছেন। এলাকাগুলো হলো কমলাপুর রেলস্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা, ফার্মগেট, মিরপুর, গাবতলী বাস টার্মিনাল ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল।
৮ থেকে ১৭ বছর বয়সী মোট ৬১ শিশুর সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়। তাদের মধ্যে ৩৬ জন পরিবারের সঙ্গে বসবাস বা কাজ করত। বাকি ২৫ জন একা বা অন্য শিশুদের সঙ্গে থাকত। এ ছাড়া ৩৭ জন অভিভাবক বা স্বজনের সঙ্গে কথা বলা হয়।
শিশুরা জানিয়েছে, স্বাস্থ্যসেবা তাদের কাছে প্রায় অধরাই। তারা কখনো সরকারি স্বাস্থ্যসেবা পায়নি। অনেকেই অসুস্থতা গুরুতর হয়ে না পড়া পর্যন্ত চিকিৎসকের কাছে যায় না।
চিকিৎসার খরচকে সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে উল্লেখ করেছে তারা। ফলে যোগ্য চিকিৎসকের বদলে অনেকেই আশপাশের ফার্মেসি ও অনানুষ্ঠানিক ওষুধ বিক্রেতাদের ওপর নির্ভর করে। কাজ বন্ধ রেখে চিকিৎসা নেওয়াও তাদের জন্য সম্ভব নয়।
পুরোনো প্রেসক্রিপশন, বারবার ফিরে আসে সমস্যা।
রাতে ফুলের মালা বিক্রেতা আসমা ফিরে যায় কামরাঙ্গীরচরের একটি বস্তিতে। সেখানে বৃদ্ধ দাদির সঙ্গে থাকে সে। দাদির খরচও তাকে চালাতে হয়। দিনে ৮০ থেকে ১০০ টাকা আয় করে আসমার পক্ষে চিকিৎসার খরচ বহন করা বা কাজ থেকে বিরতি নেওয়া সম্ভব নয়।
‘আমি কাজ না করলে খেতে পারব না,’ টাইমস অব বাংলাদেশকে বলেছিল সে।
তিন বছর আগে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে একবারই চিকিৎসকের কাছে গিয়েছিল আসমা। তখন তার রক্তস্বল্পতা ধরা পড়ে। এরপর আর কোনো ফলোআপ চিকিৎসা নেওয়া হয়নি। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, জ্ঞান হারানো ও শরীরব্যথা আরও বেড়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় হাঁটাও তার জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।
‘প্রায়ই আমার মাথা ঘোরে। শরীর ব্যথা করে,’ সে বলে।
পরীক্ষা, চিকিৎসকের পরামর্শ ও নিয়মিত ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় সুযোগ পেলেই সেই পুরোনো প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ওষুধ কেনে সে। ‘এরপর আর হাসপাতালে যাইনি,’ বলেছিল লামিয়া।
গুরুতর অসুস্থ হলে পরিবারের সদস্য, বন্ধু বা শুভাকাঙ্ক্ষীরা অনেক সময় পথশিশুদের সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। তবে যারা সঙ্গে যায়, তাদের অনেকেই কাজে ফিরে গেলে শিশুরা হাসপাতালে একা পড়ে থাকে।
সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের কাছে রুটি বিক্রি করে ১৫ বছরের হাসান। এ বছরের শুরুর দিকে প্রচণ্ড জ্বর ও তীব্র পেটব্যথা হলে এক বন্ধু তাকে সরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

‘আমার বন্ধুকে কাজে যেতে হয়েছিল। তাই হাসপাতালে একাই ছিলাম। কেউ সঙ্গে না থাকায় ভয় লাগছিল,’ টাইমসকে সে বলেছিল।
ঝুঁকিপূর্ণ কাজ, আঘাত ও সহিংসতা
বিবিএসের ২০২২ সালের জরিপে দেখা যায়, ৩১ শতাংশ পথশিশু কাজ করতে গিয়ে আঘাত পেয়েছে। অর্ধেক শিশু কর্মক্ষেত্রে সহিংসতার শিকার হয়েছে। এতে তাদের ঝুঁকিপূর্ণ কর্মপরিবেশের চিত্র উঠে আসে।
গেন্ডারিয়ার আহমেদের ঘটনা দেখায়, চিকিৎসাসেবা না পাওয়ায় কর্মক্ষেত্রের একটি আঘাত কীভাবে স্থায়ী প্রতিবন্ধিতায় পরিণত হতে পারে। অন্য অনেক পথশিশুর মতো সেও অল্প বয়সেই ঝুঁকিপূর্ণ কাজে যুক্ত হয়। রাস্তার পাশের একটি ওয়ার্কশপে ধাতু কাটার কাজ করত সে।
জানুয়ারিতে একটি মেশিনে তার ডান হাত আটকে পিষ্ট হয়। রক্তপাত বন্ধ করতে প্রথমে স্থানীয় একটি ফার্মেসিতে নেওয়া হয় তাকে। পরে এক অপরিচিত ব্যক্তি তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান। কিন্তু পরবর্তী চিকিৎসার খরচ বহন করতে না পারায় কয়েক মাস প্রায় বিনা চিকিৎসায় ছিল সে।
‘হাসপাতালে আমার হাতে ব্যান্ডেজ করে দিয়েছিল। কিন্তু এরপর আর চিকিৎসা করানোর সামর্থ্য ছিল না,’ টাইমসকে সে বলে।
এরপর ডান হাতের মুঠির শক্তি হারিয়েছে আহমেদ। হাত নড়াতেও কষ্ট হয়। ফলে ওয়ার্কশপের কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছে তাকে। এখন শসা, কুলসহ মৌসুমি বিভিন্ন ফল ও সবজি বিক্রি করে। রিকশাচালক বাবার সঙ্গে বেশিরভাগ রাত রেলস্টেশনের কাছে কাটায় সে। নিজের আয়ও কমে গেছে।
সে বলে, ‘আগের মতো কাজ করতে পারি না। তাই এখন অনেক কম আয় করি।’
মেয়েদের ঝুঁকি দ্বিগুণ
২০২৬ সালের ‘সিলেট শহরের পথশিশু-কিশোরদের যৌন ও প্রজননস্বাস্থ্যসংক্রান্ত চ্যালেঞ্জ’ শীর্ষক এক ক্রস-সেকশনাল গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারীদের ৬২ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের নির্যাতনের শিকার হয়েছে। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৮৫ শতাংশ এবং ছেলেদের ক্ষেত্রে ৪৮ শতাংশ। মেয়েদের যৌন ও মানসিক নির্যাতনের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
১৬ বছরের খালেদার জন্য মিরপুর-২-এর রাস্তায় থাকা মানে অসুস্থতার পাশাপাশি নিরাপত্তাহীনতার সঙ্গেও লড়াই করা। পুনর্ব্যবহারযোগ্য বর্জ্য সংগ্রহ ও ফুল বিক্রি করে সে। প্রায় আট বছর ধরে রাস্তায় থাকা খালেদার কাছে জ্বর, চর্মরোগ ও পেটের অসুখ নিয়মিত ঘটনা।
তারও বক্তব্য, ‘আমি বিশ্রাম নিলে খেতে পারব না।’
মাসিকের সময় অর্থের অভাবে প্রায়ই স্যানিটারি প্যাডের বদলে কাপড় ব্যবহার করে খালেদা। পরিষ্কার ও ব্যক্তিগত জায়গায় গোসল করাও তার জন্য প্রতিদিনের সমস্যা। রাতে নিরাপত্তার জন্য একদল মেয়ের সঙ্গে ঘুমায় সে।
‘ছেলেরা প্রায় যেকোনো জায়গায় ঘুমাতে পারে। কিন্তু মেয়েদের সব সময় যৌন সহিংসতা ও হয়রানির ভয় থাকে। আমরা সব সময় ভয় পাই, কেউ আমাদের গায়ে হাত দেবে বা টেনে নিয়ে যাবে.’ সে বলে।
পথশিশুদের মধ্যে যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিও রয়েছে। আইসিডিডিআর,বির ‘অপর্যাপ্ত স্বাস্থ্যব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশে পথশিশুরা এইচআইভি/এইডসের ঝুঁকিতে’ শীর্ষক এক গবেষণায় দেখা গেছে, যৌনভাবে সক্রিয় পথশিশুদের ৮৬ দশমিক ৮ থেকে ১০০ শতাংশ কখনো কনডম ব্যবহার করেনি। মাত্র ২৫ শতাংশ জানত, কীভাবে এইচআইভি বা যৌনবাহিত সংক্রমণ ছড়ায়।
পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা বেসরকারি সংস্থা পদক্ষেপের উপনির্বাহী পরিচালক মুহাম্মদ রিসালাত সিদ্দিক টাইমসকে বলেন, যৌন নির্যাতন ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের কারণে পথশিশুরা যৌনবাহিত রোগ ও এইচআইভির উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।
‘ড্রপ-ইন সেন্টারগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। কিন্তু যৌনবাহিত রোগ বা এইচআইভি পরীক্ষা ও চিকিৎসার সক্ষমতা নেই। উন্নত ল্যাব সুবিধা, প্রশিক্ষিত কর্মী, চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকার এবং নিরাপদ যৌন আচরণ সম্পর্কে সচেতনতা জরুরি,’ তিনি বলেন।

সহায়তা অপ্রতুল
সমাজসেবা অধিদপ্তরের চাইল্ড সেনসিটিভ সোশ্যাল প্রোটেকশন (সিএসপিবি) প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন করছে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে এই প্রকল্প পথসংযুক্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ শিশুদের সহায়তা দিয়ে আসছে।
প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় তাঁবুভিত্তিক চারটি হাব রয়েছে। সেখানে আশ্রয়, খাবার, কাউন্সেলিং, মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা আছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা প্রয়োজন হলে সমাজকর্মীদের সহায়তায় শিশুদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানো হয়।
বাংলাদেশ চাইল্ড হেল্পলাইনের ব্যবস্থাপক ও কুইক রেসপন্স কর্মসূচির সমন্বয়কারী চৌধুরী মো. মোহাইমেন টাইমসকে বলেন, কোভিড-১৯ মহামারির সময় জরুরি সহায়তার জন্য এসব হাব চালু করা হয়েছিল।
তবে তিনি স্বীকার করেন, জনবল ও অর্থের সীমাবদ্ধতার কারণে এর পরিধি বাড়ানো ধীরগতির হয়েছে। ফলে শিশুদের সরকারি হাসপাতালে পাঠানোর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
উন্নয়নকর্মীরা বলছেন, অনেক পথসংযুক্ত শিশু এখনো স্বাস্থ্যসেবার বাইরে রয়েছে। পথশিশুদের নিয়ে কাজ করা স্থানীয় সংস্থা লোকাল এডুকেশন অ্যান্ড ইকোনমিক ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (লিডো) নির্বাহী পরিচালক ফরহাদ হোসেন বলেন, অভিভাবকের অনুপস্থিতি, প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের অভাব, অর্থের সংকট ও চিকিৎসাসেবায় প্রবেশাধিকারের সীমাবদ্ধতার কারণে চিকিৎসা নিতে দেরি হয়। ফলে অসুস্থতা, মানসিক আঘাত ও নির্যাতনের সমস্যাগুলোও অনিষ্পন্ন থেকে যায়।
‘পথশিশুদের জন্য ভ্রাম্যমাণ স্বাস্থ্য শিবির, হাসপাতালে বাধাহীন চিকিৎসা, বিনা মূল্যে ওষুধ ও টিকা, সুরক্ষা ইউনিট, পুষ্টি কর্মসূচি, নিরাপদ আশ্রয়, দক্ষতা প্রশিক্ষণ এবং মেয়েদের জন্য আরও ভালো সুরক্ষা প্রয়োজন,’ টাইমসকে বলেন ফরহাদ হোসেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক মো. ফারুক শাহ পথশিশুদের পরিস্থিতি নিয়ে গবেষণা করেছেন। তিনি পথশিশুদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগের সীমিত পরিসরের সমালোচনা করেন। তার মতে, বিদ্যমান সেবাগুলো প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।
‘পথশিশুদের আনুমানিক সংখ্যার তুলনায় সরকারি ও এনজিও উদ্যোগ খুবই অপ্রতুল। সীমিতসংখ্যক সেবা লাখো শিশুর প্রয়োজন মেটাতে পারে না। সরকারকে তাদের জন্য পুনর্বাসন ও সহায়তা কার্যক্রম বাড়াতে হবে। এর মধ্যে স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষাও থাকতে হবে,’ টাইমসকে বলেন তিনি।
এদিকে গেন্ডারিয়ার আহমেদের সরকারের কাছে একটি সহজ দাবি, ‘আমরা অসুস্থ হলে বা হাত-পায়ে আঘাত পেলে সরকারের কাছ থেকে ডাক্তার ও চিকিৎসা চাই।’

চিকিৎসার অভাবে ঝরে যায় জীবন
অনেক পথসংযুক্ত শিশুর ক্ষেত্রে চিকিৎসায় দেরি, অভিভাবকের অনুপস্থিতি ও ওষুধের দাম বহন করতে না পারার কারণে প্রতিরোধযোগ্য অসুস্থতাও প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে প্রায় নয় বছর ধরে থাকা ১৭ বছরের মোহাম্মদ শিহাব সেখানে তার হারিয়ে যাওয়া বন্ধুদের কথা মনে করে। তাদের কেউ জ্বরে, কেউ জন্ডিসে মারা গেছে।
তাদের একজন ছিল মো. আরিফ। মা-বাবা বা কোনো স্বজন ছাড়াই থাকত সে।
প্রায় দুই বছর আগে আরিফের চোখ হলুদ হয়ে যায়। পরে দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা দেখা দেয়। শিহাব ও তার বন্ধু হামিদ এবং আলিম তাকে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে চিকিৎসকেরা জন্ডিস শনাক্ত করে ওষুধ দেন।
কিন্তু ওষুধ কেনার সামর্থ্য না থাকায় কয়েক দিন পর আরিফ ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেয়। অবস্থার অবনতি হলে স্টেশনের পাশে ইটের ওপর শুয়ে শেষ দিনগুলো কাটায় সে।
‘ওষুধ কেনার সামর্থ্য ছিল না বলে সে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দিয়েছিল। প্রতিদিনই দুর্বল হয়ে যাচ্ছিল। এক সকালে আমরা দেখি সে মারা গেছে,’ টাইমসকে বলেন শিহাব।
শিহাবের কাছে আরিফের মৃত্যু এখনো মনে করিয়ে দেয়, কীভাবে দারিদ্র্য স্বাস্থ্যসেবা পাওয়ার সুযোগ নির্ধারণ করে দেয়। বাংলাদেশে রাস্তায় বসবাস ও কাজ করা হাজারো শিশুর জন্য এই বাস্তবতা এখনো রয়ে গেছে।
নোট: শিশুদের সর্বোত্তম স্বার্থ বিবেচনায় তাদের প্রকৃত নামের পরিবর্তে ছদ্মনাম ব্যবহার করা হয়েছে।


